সারাদিনের খাতার হিসেব নিমেষে ডিজিটাল! খাতা-কলম ছেড়ে এআই-এর ম্যাজিক দেখে যা করলেন এই বাবা

আজকাল চারপাশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-এর জয়জয়কার। তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে তথ্যপ্রযুক্তির বিশেষজ্ঞরা এটি শিখতে ব্যস্ত। কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন কি, যে প্রযুক্তি রপ্ত করতে বড়দের দিনের পর দিন সময় লেগে যায়, তা যদি আমাদের বাবা-মায়েরা মাত্র তিন দিনে শিখে ফেলেন? সোশ্যাল মিডিয়ায় বর্তমানে ঠিক এমনই এক আবেগঘন ও অনুপ্রেরণামূলক ভিডিও ঝড় তুলেছে। উদ্যোক্তা আয়ুষ শুক্লা কর্তৃক শেয়ার করা এই ভিডিওটিতে দেখা গেছে, কীভাবে তিনি তাঁর বাবাকে চ্যাটজিপিটি (ChatGPT) ব্যবহার করা শিখিয়েছেন এবং মাত্র তিন দিনের মাথায় তাঁর বাবা এই আধুনিক প্রযুক্তির একজন দক্ষ ব্যবহারকারী বা ‘এআই প্রো’ হয়ে উঠেছেন।
ভাইরাল হওয়া এই ভিডিওর শুরুতে আয়ুষকে তাঁর বাবাকে জিজ্ঞাসা করতে দেখা যায় যে তিনি কী করছেন। তখন তাঁর বাবা একটি খাতা দেখিয়ে জানান যে, তিনি সমস্ত প্রয়োজনীয় হিসাব-হাতে লিখে নোট করে রেখেছেন এবং এখন সেগুলো একে একে কম্পিউটারে টাইপ করার চেষ্টা করছেন। ঠিক তখনই ছেলে তাঁকে এক সহজ ও আধুনিক উপায়ের হদিস দেন। আয়ুষ তাঁকে বোঝান যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা টাইপ করার ঝামেলায় না গিয়ে এআই-এর সাহায্য নেওয়া অনেক সহজ। তিনি বাবাকে শিখিয়ে দেন কীভাবে চ্যাটজিপিটি অ্যাপের প্লাস চিহ্নে ট্যাপ করে ক্যামেরার সাহায্যে খাতার পাতার ছবি তুলতে হয় এবং ছবিটিকে নিমিষেই একটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ডিজিটাল টেবিলে রূপান্তরিত করতে হয়।
মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে হাতে লেখা কাঁচা হিসাব নিখুঁত ডিজিটাল টেবিলে রূপান্তরিত হতে দেখে রীতিমতো তাজ্জব বনে যান বাবা। তাঁর বিশ্বাসই হচ্ছিল না যে এত জটিল কাজ এত কম সময়ে সম্পন্ন হতে পারে। পরের দিনই তিনি বুঝতে পেরে যান যে যে কাজ করতে আগে দীর্ঘ সময় লাগত, তা এখন এআই-এর সৌজন্যে চোখের পলকে সম্ভব। আর মাত্র তৃতীয় দিনে এসেই আয়ুষ তাঁর বাবাকে ‘এআই প্রো’ হিসেবে ঘোষণা করেন, কারণ ততদিনে প্রবীণ এই মানুষটি কোনো সাহায্য ছাড়াই একা একা চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে নিজের সমস্ত কাজ নিজে করতে শুরু করে দিয়েছিলেন। পিতা-পুত্রের এই সুন্দর বন্ধন এবং শেখার অদম্য কৌতূহল নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই মন জয় করে নিয়েছে নেটিজেনদের।