গ্রামেই মিলবে শহরসুলভ শিক্ষা! উত্তরপ্রদেশের ৫৪ হাজারেরও বেশি গ্রামে বিপ্লব আনল ডিজিটাল লাইব্রেরি

উত্তরপ্রদেশের গ্রামীণ এলাকার ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল ‘এক্স’-এ এক পোস্টে জানান যে, ২০১৭ সালের আগের পরিস্থিতি আর বর্তমানের ব্যবধান আকাশ-পাতাল। অতীতে গ্রামের ছেলেমেয়েদের কোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি বা উন্নত বইয়ের জন্য শহরের ওপর নির্ভর করতে হতো, যার ফলে সময় এবং অর্থ দুটোই অপচয় হতো। কিন্তু বর্তমানে বাহরাইচের তেজওয়াপুর ব্লকের খাসাহা মোহাম্মদপুরসহ উত্তরপ্রদেশের প্রায় ৫৭,৬০০টি গ্রাম পঞ্চায়েতে ডিজিটাল লাইব্রেরি তৈরি হয়েছে। এই লাইব্রেরিগুলিতে কম্পিউটার, প্রিন্টার, উচ্চ-গতির ইন্টারনেট, ওয়াই-ফাই, স্মার্ট টিভি এবং ন্যাশনাল বুক ট্রাস্টের সাহিত্যসহ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রয়োজনীয় বই এক ছাদের নিচে উপলব্ধ রয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, একসময়ে ২০১৭ সালের আগে রাজ্যের মাত্র ৭৬টি স্থানে ই-লাইব্রেরির সুবিধা সীমিত ছিল, যা আজ অভূতপূর্বভাবে প্রসারিত হয়েছে। ডিজিটাল শিক্ষাকে আরও গতিশীল করতে প্রায় ৬০ লক্ষ তরুণ-তরুণীকে স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, রাজ্যের ৩২,০০০-এর বেশি স্কুলে স্মার্ট ক্লাসরুম এবং ১৫,০০০-এর বেশি স্কুলে আইসিটি ল্যাব চালু করা হয়েছে। ২০১৭ সালের আগের বঞ্চনার কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, ২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে পর্যাপ্ত বাজেট থাকা সত্ত্বেও বহু শিশুকে পাঠ্যবই বা ইউনিফর্ম দেওয়া হয়নি। কিন্তু বর্তমান সরকার শিক্ষা উপকরণের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করে অভিভাবকদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে এনেছে। খাসাহা মোহাম্মদপুরের মতো ডিজিটাল লাইব্রেরি ও গ্রাম পঞ্চায়েত সচিবালয়গুলি এখন কেবল প্রশাসনিক কেন্দ্র নয়, বরং জ্ঞান ও প্রযুক্তির নতুন আলোকবর্তিকা হয়ে গ্রামের প্রতিটি শিশুর দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে।