ফাঁকা স্কুলে নাবালিকা ছাত্রীর সঙ্গে ‘আপত্তিকর’ অবস্থায়! হাতেনাতে ধরে শিক্ষককে চরম গণপিটুনি গ্রামবাসীদের

পবিত্র শিক্ষাঙ্গনকে কলুষিত করার অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠল মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর। ফাঁকা স্কুল ঘরের ভেতর এক নাবালিকা ছাত্রীর সঙ্গে ‘আপত্তিকর’ অবস্থায় হাতেনাতে ধরা পড়ার পর এক শিক্ষককে ঘিরে ধরে ব্যাপক বিক্ষোভ ও মারধরের অভিযোগ উঠল স্থানীয় বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, ঘটনাস্থলে গিয়ে গ্রামবাসীদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়তে হয় পুলিশকেও। এই নৃশংস ঘটনায় গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বেশ কিছুদিন ধরেই হরিশ্চন্দ্রপুরের একটি বেসরকারি স্কুলের ওই শিক্ষককে নিয়ে স্থানীয়দের মনে সন্দেহ দানা বেঁধেছিল। অভিযোগ, স্কুলের নির্ধারিত সময়ের অনেক আগে কিংবা ছুটির পরেও ওই শিক্ষক এবং এক নাবালিকা ছাত্রীকে নিয়মিত স্কুলে ঢুকতে দেখা যেত। এমনকি স্কুল বন্ধ থাকার দিনেও তাঁরা স্কুল চত্বরে প্রবেশ করতেন এবং ঘরের দরজা বন্ধ করে ভেতরে অবস্থান করতেন।

সোমবার সকালেও একইভাবে ওই শিক্ষক ও ছাত্রীকে স্কুলে ঢুকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এরপরই সন্দেহ হওয়ায় কয়েকজন স্থানীয় মানুষ স্কুল ঘরের ভেতরে গিয়ে তাঁদের অত্যন্ত আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান বলে দাবি করেছেন। এই দৃশ্য সামনে আসতেই মুহূর্তের মধ্যে আগুন জ্বলে ওঠে এলাকাবাসীর মধ্যে।

কী বলছেন স্থানীয়রা? ঘটনা প্রসঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা বিভাস দাস বলেন, “দীর্ঘদিন ধরেই স্কুলের সময়ের বাইরে শিক্ষক ও ওই ছাত্রীকে এখানে আসতে দেখা যাচ্ছিল। আজও তাঁদের স্কুলে ঢুকতে দেখে সন্দেহ হয়। পরে ভেতরে গিয়ে আমরা আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পাই। বিষয়টি নিয়ে আমরা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। শিক্ষাঙ্গনে এ ধরনের কর্মকাণ্ড আমরা কোনোভাবেই বরদাস্ত করব না।”

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বিকাশ দাস ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো পবিত্র জায়গায় এই ধরনের অনৈতিক ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। প্রশাসনের কাছে তাঁদের জোরালো দাবি, অবিলম্বে ওই অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর থেকে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

প্রশাসন ও স্কুল কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। উত্তেজিত জনতা ও ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের কবল থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক ও ছাত্রীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

অন্যদিকে, স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা জানান যে তিনি এই বিষয়ে আগে থেকে কিছু জানতেন না। সকালের দিকে স্কুল বন্ধ থাকে উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক যদি সত্যিই এই ধরনের কু-কর্মের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে স্কুল পরিচালনা কমিটির তরফ থেকেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Pratik Saha
  • Pratik Saha