যুদ্ধের অবসান ঘটানোর ঐতিহাসিক মোড়! ভারতের মধ্যস্থতার প্রস্তাবে সিলমোহর দিল ইউক্রেন, দাবি ঘিরে বিশ্বজোড়া চর্চা

প্রায় দীর্ঘ সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ হওয়ার কি তবে অবশেষে কোনো পথ খুলল? যুদ্ধ থামানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ভারতের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা ও কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে কিয়েভ থেকে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত ওজনদার বিবৃতি সামনে এসেছে। ইউক্রেন সরকার প্রকাশ্যে ভারতের শান্তি প্রস্তাবটিকে চলমান সমস্ত প্রচেষ্টার মধ্যে ‘সবচেয়ে ব্যাপক ও কার্যকর’ বলে বর্ণনা করেছে। পাশাপাশি, এই প্রথমবার নয়াদিল্লি কোনো নিরপেক্ষ এবং সক্রিয় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করার জোরালো ইচ্ছা প্রকাশ করেছে বলেও তারা জানিয়েছে।

সম্প্রতি এক সাংবাদিক সম্মেলনে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিয়া আন্তর্জাতিক মহলের সামনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, যুদ্ধরত দুই পক্ষের মধ্যে শান্তি ফেরাতে বর্তমানে মোট চারটি প্রধান আন্তর্জাতিক উদ্যোগ বা প্রস্তাব টেবিলে রয়েছে। যার মধ্যে ভারতের উদ্যোগটিকেই সবচেয়ে বড় এবং সামগ্রিক বলে মেনে নিয়েছে কিয়েভ। সিবিয়া পরিষ্কার ভাষায় জানিয়েছেন, “আমাদের সামনে এই মুহূর্তে চারটি প্রস্তাব রয়েছে। যার মধ্যে সবচেয়ে ব্যাপক ও বড়টি হলো ভারতের প্রস্তাব। এই প্রথমবার ভারত এই ধরনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনে গভীর আগ্রহ দেখিয়েছে।”

ইউক্রেনীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, কিয়েভ সরকার বর্তমানে কৃষ্ণ সাগরে জ্বালানি ও কৃষিভিত্তিক পণ্য সরবরাহের চুক্তির পাশাপাশি মূল সংযোগ রেখা বরাবর একটি নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতি মেনে নেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করতে প্রস্তুত। ভারতের এই বিশেষ মধ্যস্থতার প্রস্তাবের মূল ফোকাস রয়েছে— শুধু সামরিক সংঘাত থামানোই নয়, বরং জ্বালানি ও বন্দর পরিকাঠামোর ওপর ধ্বংসাত্মক হামলা বন্ধ করা এবং কৃষ্ণ সাগরের কৌশলগত পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা। বিশ্ব রাজনীতির এই জটিল পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লির এই উদ্যোগ আগামী দিনে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধবিরতির পথ কতটা প্রশস্ত করতে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Pratik Saha
  • Pratik Saha