মাসিক বেতন মাত্র ২৫০০ টাকা, আজ তিনি ৬ কোটিরও বেশি সম্পত্তির মালিক! কীভাবে অসম্ভবকে সম্ভব করলেন ইনি?

টাকা উপার্জন এবং জীবনে সম্পদ গড়ে তোলার পথচলা প্রত্যেক মানুষের জন্য সম্পূর্ণ আলাদা। কারোর জীবন সংগ্রামের গল্প অনুপ্রেরণা জোগায়, তো কারোর ভুল আর্থিক সিদ্ধান্ত চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় ভুলের মাসুল। সম্প্রতি তেমনই তিনটি ভিন্নধর্মী ‘অর্থের যাত্রা’ বা ফাইন্যান্সিয়াল জার্নির গল্প সামনে এসেছে, যা সঞ্চয়, সঠিক বিনিয়োগ এবং নিয়ন্ত্রিত খরচের আসল পাঠ পড়ায়।

  • ২,৫০০ টাকার বেতন থেকে ৬ কোটির সাম্রাজ্য: নরেশ ভরদ্বাজ যখন নিজের কর্মজীবন শুরু করেছিলেন, তখন তাঁর মাসিক বেতন ছিল মাত্র ২৫০০ টাকা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আয়ের পরিমাণ বাড়লেও তিনি বিলাসবহুল জীবনে না ঝুঁকে সুশৃঙ্খলভাবে সঞ্চয়কে অগ্রাধিকার দেন। মূলত পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড (PPF) এবং ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম (NPS)-এর (NPS) মতো নিরাপদ সরকারি স্কিমে নিয়মিত বিনিয়োগ করেই তিনি আজ ৬ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের বিশাল সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন। তাঁর এই অনুপ্রেরণামূলক গল্প প্রমাণ করে যে, ছোট সঞ্চয় এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ কীভাবে জীবন বদলে দিতে পারে।

  • শেয়ার বাজার ছাড়াই ৩ কোটির লক্ষ্যমাত্রা: দ্বিতীয় গল্পটি গ্রিজেশ আগলের। স্টক মার্কেট বা মিউচুয়াল ফান্ডে সরাসরি ঝুঁকি না নিয়েও তিনি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত উপায়ে ৩ কোটি টাকার বেশি একটি শক্তিশালী অবসরকালীন তহবিল গড়ার লক্ষ্য স্থির করেছেন। তাঁর এই কৌশল মূলত ঐতিহ্যগত সঞ্চয় এবং নিরাপদ বিনিয়োগ পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা বুঝিয়ে দেয় যে ঝুঁকি না নিয়েও সঠিক পরিকল্পনায় বড় তহবিল গড়া সম্ভব।

  • ৮০ লক্ষের আয় থেকে একেবারে শূন্যে: অন্যদিকে, মুদ্রার উল্টো পিঠের ছবিও রয়েছে। একসময় যাঁর বার্ষিক আয় ছিল চোখ ধাঁধানো ৮০ লক্ষ টাকা, সময়ের ফেরে এবং ভুল আর্থিক পদক্ষেপের কারণে তাঁর সেই উপার্জন আজ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ বা শূন্যে এসে ঠেকেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তিন ব্যক্তির জীবনযাত্রা আমাদের স্পষ্ট শিক্ষা দেয় যে, আয়ের পরিমাণ যতই হোক না কেন, সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় সঞ্চয়, বিনিয়োগ এবং খরচে নিয়ন্ত্রণ না রাখলে যেকোনো মুহূর্তে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে।