প্রেমিকার সঙ্গে ব্রেকআপ, বাবাকেই তুলে নিয়ে গেল প্রাক্তন প্রেমিক! তারপর যা হলো…?

প্রেমিকার সঙ্গে ব্রেকআপ। ফোনে যোগাযোগ রাখা তো দূরের কথা, কথা বলাও একেবারে বন্ধ করে দিয়েছিলেন তরুণী। আর সেই ক্ষোভ মেটাতে যা ঘটল, তা যে কোনো সিনেমার গল্পকেও হার মানাবে। সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে প্রেমিকার বাবাকেই বন্দুকের মুখে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠল খোদ প্রাক্তনের বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের গুজরাটের সুরাটে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১ অক্টোবর সুরাটের এক নামী ব্যবসায়ীকে তার বাড়ি থেকেই জোর করে অপহরণ করা হয়। এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে ঋষভ নাহাতা নামের এক যুবক এবং তার দুই বন্ধু। অভিযুক্ত ঋষভের সঙ্গে ওই ব্যবসায়ীর মেয়ের একটা প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসেন তরুণী এবং ঋষভের সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ চিরতরে ছিন্ন করে দেন।

মেয়ের এই আচরণে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হন ঋষভ। গত ১ অক্টোবর সুরাটের সেই ব্যবসায়ীর বাড়িতে হানা দেন ঋষভ ও তার দুই সঙ্গী। সেই সময় বাড়িতে তরুণী না থাকলেও একা ছিলেন তাঁর বাবা।

বন্দুক দেখিয়ে অপহরণ ও পুলিশের দ্রুত তৎপরতা

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়িতে ঢুকে ব্যবসায়ীর কাছে মেয়ে কেন তাঁর সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছেন, তার কৈফিয়ত চান ঋষভ। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেলে, ওই ব্যবসায়ীর মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে তাঁকে জোর করে অপহরণ করে চম্পট দেয় অভিযুক্তরা।

ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আসরে নামে সুরাট পুলিশ। প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অপহৃত ব্যবসায়ীর অবস্থান শনাক্ত করা হয়। সুরাটের সিটি লাইট এলাকা থেকে ওই ব্যবসায়ীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। একই সঙ্গে এই ঘটনায় জড়িত মূল অভিযুক্ত ঋষভ নাহাতা সহ তার দুই সহযোগীকেও হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশের জেরায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ঋষভ দাবি করেছে, ব্যবসায়ীর মেয়ে তার এক নারী বন্ধুকে ফোন করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছিলেন। সেই ব্যাপারেই কৈফিয়ত চাইতে সে ওই ব্যবসায়ীর বাড়িতে গিয়েছিল। কিন্তু বাড়িতে তরুণীকে না পেয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতির জেরে এই অপহরণের কাণ্ড ঘটে।

তবে পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত তিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধেই অতীতে একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের রেকর্ড রয়েছে। প্রেমিকার ওপর রাগ মেটাতে বাবার ওপর এই ধরনের হামলা চালানোর ঘটনায় রীতিমতো শিউরে উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দারা।