৯/১১-র মতো বড় নাশকতার ছক! ইজরায়েলগামী বিমান ক্র্যাশ করাতে চেয়েছিল অভিযুক্ত কো-পাইলট হামাম!

তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানোর অভিযোগে অভিযুক্ত কো-পাইলটের আসল পরিচয় অবশেষে প্রকাশ্যে এসেছে। ২৯ বছর বয়সি ওই কো-পাইলটের নাম হামাম আল-হামামি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামাম অতীতে সিরিয়ায় দীর্ঘ সময় কাটিয়েছিলেন এবং সেখানেই তিনি আল-কায়েদাবাদীর মতো উগ্রপন্থী ও কট্টরপন্থী মতাদর্শে গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন। তাঁর এই চরমপন্থী মানসিকতা ও উগ্র কার্যকলাপে নড়েচড়ে বসে ওমান কর্তৃপক্ষ, যার জেরে তাঁকে এর আগেই বিমান চালনা থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। ওমান থেকে নিষিদ্ধ হওয়ার পরেও কীভাবে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে এসে ফ্লাইদুবাইয়ের মতো সংবেদনশীল সংস্থায় কমার্শিয়াল পাইলটের চাকরি পেলেন এবং ইজরায়েলের মতো সংবেদনশীল রুটে বিমান চালানোর সুযোগ পেলেন, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে।
আল আরাবিয়া সহ একাধিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমের সূত্রে প্রকাশ, হামাম ওমানের বাইরে সিরিয়ায় থাকাকালীন বিভিন্ন উগ্রপন্থী নেটওয়ার্ক এবং ধর্মীয় উগ্রবাদীদের সংস্পর্শে আসেন। ইজরায়েলের চ্যানেল ১২-এর তদন্তে উঠে এসেছে যে, বিমানটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে ইজরায়েলে ক্র্যাশ করানোর পরিকল্পনা করেছিলেন হামাম। ইজরায়েলি গোয়েন্দা ও i24NEWS-এর তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত কো-পাইলট নিজেই তদন্তকারীদের কাছে স্বীকার করেছেন যে তাঁর মূল উদ্দেশ্য ছিল বিমানটি বিধ্বস্ত করে ৯/১১-এর মতো একটি ভয়াবহ মর্মান্তিক সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটানো। সিএনএন ও ফক্স নিউজের রিপোর্টেও জানানো হয়েছে যে, এর আগে ২০২৪ সালে উগ্রপন্থী ইসলামিক ওয়েবসাইট দেখার গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর তাঁর প্রশিক্ষণ ও উড়ান চালানোর লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছিল।
গত ৩০ সেপ্টেম্বরের এই ভয়াবহ ঘটনায়, মাঝআকাশে হঠাৎই ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারের ওপর চড়াও হন কো-পাইলট হামাম এবং তাঁকে ছুরিকাঘাত করেন। এই আকস্মিক হামলায় বোয়িং ৭৩৭ বিমানটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়ে হু হু করে নীচের দিকে নামতে শুরু করে। তবে চরম সাহসিকতা ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে মারাত্মকভাবে আহত হওয়া সত্ত্বেও ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছার ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এরপর বিমানে থাকা অন্য ক্রু সদস্য এবং দুই অফ-ডিউটি পাইলটের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়।
প্রাথমিক চিকিৎসার পর অভিযুক্ত হামামকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে বর্তমানে এই ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চলছে। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এই ঘটনাটিকে একটি স্পষ্ট সন্ত্রাসবাদী হামলা বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, বিমানটি ধ্বংস করে বিমানে থাকা সমস্ত ইজরায়েলি যাত্রীকে হত্যা করাই ছিল মূল হামলাকারীর সুদূরপ্রসারী উদ্দেশ্য। নিরাপত্তার খাতিরে ফ্লাইদুবাই আপাতত তেল আভিভগামী সমস্ত বিমান চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রেখেছে।