চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করতেই চাঞ্চল্য! বাদ গেল লক্ষাধিক নাম, নতুন পরিসংখ্যানে অবাক সাধারণ মানুষ

উত্তরাখণ্ডে স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ভোটারদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত নতুন তালিকা অনুযায়ী, রাজ্যে বর্তমানে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭১.৫৮ লক্ষ। তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, যখন এই যাচাইকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, তখন মোট ভোটারের সংখ্যা এর চেয়ে প্রায় ৮ লক্ষ বেশি ছিল। অর্থাৎ, এই পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত ও যাচাইকরণের পর প্রায় ৮ লক্ষ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এই সংখ্যাটি নিয়ে আরও বড় দাবি তুলে সরব হয়েছে।

কংগ্রেস নেতা মনোজ রাওয়াতের অভিযোগ অনুযায়ী, যাচাইকরণ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে রাজ্যে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ৮৫.১৯ লক্ষ, যা বর্তমানে নাটকীয়ভাবে কমে ৭১.৫৮ লক্ষের ঘরে এসে ঠেকেছে। অর্থাৎ, তাদের দাবি অনুসারে হ্রাসের প্রকৃত পরিমাণ প্রায় ১৪ লক্ষ। এদিকে, উত্তরাখণ্ডের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ জুন যখন এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হয়, তখন রাজ্যে প্রায় ৭৯.৬০ লক্ষ ভোটার নথিভুক্ত ছিলেন। বিভিন্ন বুথ স্তরে ফর্ম বিতরণ ও সংগ্রহের পর ১৪ জুলাই যে অস্থায়ী তালিকা প্রকাশিত হয়, তাতে ভোটার সংখ্যা কমে প্রায় ৭.১৩ কোটিতে নেমে আসে। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন ১৪ জুলাই থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে নাম সংযোজন ও বিয়োজনের জন্য দাবি ও আপত্তি জানানোর সুযোগ দেয়। ১৩ আগস্ট থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই সমস্ত দাবির নিষ্পত্তি করা হয় এবং অবশেষে ৩ অক্টোবর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়।

নতুন তালিকা অনুযায়ী, বর্তমানে মোট ভোটারদের মধ্যে ৩৪ লক্ষ ২১ হাজার মহিলা, ৩৭ লক্ষ ৩৭ হাজার পুরুষ এবং ২১২ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন। এছাড়া এই তালিকায় ৭২ হাজার ৬৫৮ জন তরুণ ভোটার (১৮-১৯ বছর বয়সী) এবং ১ লক্ষ ২২ হাজার ৮৯২ জন প্রবীণ নাগরিক (৮০ বছরের উর্ধ্বে) অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় ১ লক্ষ ২৯ হাজার ৮৭২টি নতুন ও সঠিক নাম নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে এবং একই সঙ্গে ১ লক্ষ ৪ হাজার ৭০৮টি নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই চূড়ান্ত তালিকার প্রকাশের পরেও যদি কোনো যোগ্য নাগরিকের নাম কোনো কারণে বাদ পড়ে গিয়ে থাকে, তবে তারা অবিলম্বে ফর্ম-৬ (Form-6) পূরণ করে ‘ECINet’ অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইনে অথবা সরাসরি সংশ্লিষ্ট বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও-র (BLO) মাধ্যমে অফলাইনে আবেদন করতে পারবেন। এই সমস্ত বাদ পড়া ভোটারদের পুনরায় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে রাজ্যজুড়ে বিশেষ শিবিরের আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।