রাজস্থানে বড়সড় নিয়োগ দুর্নীতি! বর্ডার গার্ড পরীক্ষায় ১৭ প্রার্থীর জাল সার্টিফিকেট ফাঁস, কোতোয়ালিতে এফআইআর

রাজস্থানের বারমেড় জেলায় ২০২২ সালের বর্ডার গার্ড নিয়োগ পরীক্ষায় এক বিশাল জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। সরকারি চাকরি নিশ্চিত করার জন্য প্রার্থীরা সম্পূর্ণ অসৎ উপায় অবলম্বন করে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছিল। বোনাস পয়েন্ট হাসিল করতে এই প্রার্থীরা খেলাধুলা, স্কাউটিং, আইটিআই এবং কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত সম্পূর্ণ জাল শংসাপত্র জমা দিয়েছিল। সম্প্রতি বিভাগীয় পক্ষ থেকে এই সমস্ত নথি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হলে এই বড়সড় কেলেঙ্কারির পর্দাফাঁস হয়। এই ঘটনায় কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে বারমেড়ের বর্ডার গার্ডের অতিরিক্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা দীপ সিং শহরের কোতোয়ালি থানায় ১৭ জন প্রার্থীর সুনির্দিষ্ট নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে একটি মামলা রুজু করে জোরেশোরে তদন্ত শুরু করেছে।
হোম গার্ড ভলান্টিয়ার নিয়োগ ২০২২-এর এই পুরো প্রক্রিয়াটিতে কোনো ধরনের লিখিত পরীক্ষার ব্যবস্থা ছিল না। ফলে নির্বাচন প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি শারীরিক সক্ষমতা এবং বিভিন্ন অতিরিক্ত যোগ্যতার ওপর প্রাপ্ত স্কোরের ওপর নির্ভরশীল ছিল। এই সুযোগের সম্পূর্ণ সদ্ব্যবহার করতে প্রার্থীরা অতিরিক্ত পয়েন্ট অর্জন করে মেধা তালিকায় নিজেদের স্থান পাকা করার উদ্দেশ্যে খেলাধুলা, স্কাউটস, আইটিআই, কম্পিউটার এবং জাতিগত শংসাপত্র জমা দিয়েছিল। প্রাথমিক পর্যায়ে এই জাল সার্টিফিকেটগুলির মাধ্যমে প্রার্থীরা ভালো নম্বর পেয়ে সিলেকশন প্রক্রিয়ায় বেশ এগিয়েও গিয়েছিল। কিন্তু যখন বিভাগ সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং দপ্তরগুলির সঙ্গে এই সার্টিফিকেটগুলির সত্যতা যাচাই করতে শুরু করে, তখন দেখা যায় যে ১৭ জন প্রার্থীর সমস্ত নথিই সম্পূর্ণ জাল ও বানোয়াট।
বর্ডার হোম গার্ড কমান্ড্যান্ট মহেন্দ্র সিং এই গোটা বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে জানিয়েছেন যে, নির্বাচিত প্রার্থীদের নথিগুলো নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখার সময়ই এই জালিয়াতি ধরা পড়ে। এর মধ্যে একজন প্রার্থী তো সংরক্ষণের অনৈতিক সুবিধা পাওয়ার জন্য নিজের জাতিগত শংসাপত্রটিতেও মারাত্মক জালিয়াতি করেছিলেন। তদন্তে স্পষ্টভাবে জানা গেছে যে ওই প্রার্থী মূলত তফসিলি উপজাতি (এসটি) সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অন্যায় সুবিধা আদায়ের জন্য তপশিলি জাতি (এসসি) বিভাগের একটি জাল সার্টিফিকেট জমা দিয়েছিলেন। কোতোয়ালি থানার কর্মকর্তা মনোজ কুমার জানিয়েছেন যে, যেহেতু কোনো লিখিত পরীক্ষা ছিল না, তাই সম্পূর্ণ দায় ছিল এই সার্টিফিকেটগুলোর নম্বরের ওপর। বর্তমানে পুলিশ এই জাল সার্টিফিকেটগুলো সরবরাহকারী মূল চক্র বা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার জন্য জোরকদমে তল্লাশি চালাচ্ছে।