সুপ্রিম কোর্টে বিরাট ধাক্কা খেলেন মমতা! তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলায় সর্বোচ্চ আদালত কী জানাল?

সুপ্রিম কোর্টে বড়সড় আইনি ধাক্কার মুখোমুখি হলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কে থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চারটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার সিআইডি (CID)-এর পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে যে আইনি লড়াই শুরু হয়েছিল, তাতে সর্বোচ্চ আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে তারা এই মামলায় এখনই কোনও রকম হস্তক্ষেপ করবে না। এর ফলে সিআইডি কর্তৃক ফ্রিজ করা তৃণমূলের চারটি অ্যাকাউন্টের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহালই থাকছে এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এই সংক্রান্ত মামলাটি পুনরায় হাইকোর্টেই ফেরত পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল যখন রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা শাখা সিআইডি ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কে থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের চারটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার নির্দেশ দেয়। রাজনৈতিক শিবিরের একাংশের মতে, এই অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ হয়ে যাওয়ায় শাসক দলের আর্থিক লেনদেন ও দৈনন্দিন সাংগঠনিক কার্যক্রমে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল প্রথমে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। কিন্তু সেখানে কাঙ্ক্ষিত আইনি স্বস্তি বা স্বস্তিদায়ক রায় না মেলায়, তৃণমূল কংগ্রেসের আইনি টিম তিতিক্ষা না হারিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়।

তবে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েও আপাতত স্বস্তি মিলল না। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই মামলায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করে এবং মামলাটিকে পুনরায় কলকাতা হাইকোর্টেই ফেরত পাঠায়। সর্বোচ্চ আদালতের এই স্পষ্ট বার্তার ফলে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, আপাতত ওই চারটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ওপর জারি থাকা ফ্রিজ বা স্থগিতাদেশ বহাল থাকছে। এই পরিস্থিতিতে আগামী দিনে কলকাতা হাইকোর্ট এই মামলায় কী রায় দেয় এবং তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব পরবর্তী আইনি বা রাজনৈতিক পদক্ষেপ কী গ্রহণ করে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের। দলের আর্থিক স্তম্ভ বলে পরিচিত এই অ্যাকাউন্টগুলির ওপর এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব आगामी নির্বাচনে কতটা গভীর হতে পারে, তা নিয়েও শুরু হয়ে গেছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।