‘বিদ্যুৎ নেই, চারপাশ অন্ধকার, তারপর একের পর এক বোমা!’ হাড়োয়ায় রক্তাক্ত রাজনৈতিক সংঘর্ষে চাঞ্চল্য

উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়া বিধানসভা এলাকার শালিপুর পঞ্চায়েতের তালবেড়িয়া গ্রাম গত রাতে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক হিংসার সাক্ষী থাকল। রাতের অন্ধকারে হঠাৎই পুরো এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের ওপর অতর্কিত সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। এই ভয়াবহ বোমাবাজির ঘটনায় অন্তত পাঁচজন বিজেপি কর্মী গুরুতরভাবে জখম হয়েছেন। তাঁদের তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে হাড়োয়া গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তাঁরা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল গভীর রাতে তালবেড়িয়া এলাকায় হঠাৎ করেই বিদ্যুৎ চলে যায়। ঘুটঘুটে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে দুষ্কৃতীরা দলবেঁধে ওই বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের লক্ষ্য করে পরপর পাঁচটি বোমা ছোঁড়ে। বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। আকস্মিক এই হামলায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা ঘর থেকে বের হওয়ার সাহস পাননি। বোমার আঘাতে গুরুতর জখম হন পাঁচজন বিজেপি কর্মী-সমর্থক। তাঁদের আর্তনাদে রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে খানখান হয়ে যায়।

ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় হাড়োয়া থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশ ও বোমা স্কোয়াডের প্রাথমিক তল্লাশিতে ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু তাজা বোমা এবং বোমা তৈরির বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ সুত্রে খবর, পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছে এবং তল্লাশি অভিযান চলছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই হাড়োয়া থানায় একটি সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

এই ঘটনার পেছনে আইএসএফ (ISF)-এর দুষ্কৃতীদের সরাসরি হাত রয়েছে বলে জোরালো অভিযোগ তুলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নেতৃত্ব। বিজেপির দাবি, এলাকায় নিজেদের রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে এবং ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করতে এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, আইএসএফ নেতৃত্ব সমস্ত অভিযোগ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় অস্বীকার করেছে। তাদের পাল্টা দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে দলের কোনো যোগ নেই, বরং নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ঢাকতে বিজেপি মিথ্যা প্রোপাগাণ্ডা চালাচ্ছে।