পুজোর ভূরিভোজে চমক আনুন! সিক্রেট মশলায় বাড়িতেই বানান রেস্তোরাঁ স্টাইলের বিখ্যাত মৈথিলী মটন

উৎসবের আমেজ মানেই চুটিয়ে আড্ডা আর জমিয়ে খাওয়া-দাওয়া। পুজোর এই বিশেষ দিনগুলোতে অনেকেই কড়া নিয়মে পেঁয়াজ-রসুন খাওয়া এড়িয়ে চলেন। কিন্তু তাই বলে পাতে কি খাসির মাংসের লোভ সংবরণ করা যায়? একেবারেই নয়! বনেদি বাড়ির পুজোয় মায়ের ভোগেও নিরামিষ খাসির মাংস দেওয়ার প্রাচীন ঐতিহ্য রয়েছে। তবে আজ চেনা সেই পদটিকেই এক জাদুকরি মশলার ছোঁয়ায় একেবারে নতুন রূপ দিতে পারেন। শেফ হয়ে আজ আপনার রান্নাঘরেই তৈরি করে ফেলুন বিহারের বিখ্যাত ও সুস্বাদু ‘মৈথিলী মটন’।
প্রয়োজনীয় উপকরণ:
এই সুস্বাদু পদটি তৈরির জন্য খুব বেশি উপকরণের প্রয়োজন নেই। আপনার রান্নাঘরে থাকা খাসির মাংস, টক দই, আদা বাটা, লাল লঙ্কার গুঁড়ো, ধনে গুঁড়ো, জিরে গুঁড়ো, দারচিনির গুঁড়ো, হিং, খাঁটি ঘি, কয়েকটা ছোট এলাচ, লবঙ্গ, সামান্য চিনি, সর্ষের তেল এবং স্বাদমতো নুন—বাস, এই কয়েকটি উপাদানই যথেষ্ট।
বানানোর সহজ পদ্ধতি:
প্রথমে একটি বড় পাত্রে খাসির মাংস নিয়ে তার ওপর একে একে টক দই, লঙ্কার গুঁড়ো, ধনে ও জিরে গুঁড়ো ছড়িয়ে দিন। এর সঙ্গে পরিমাণমতো সর্ষের তেল, দারচিনি গুঁড়ো, বেশ খানিকটা আদা বাটা এবং এক চিমটে হিং মিশিয়ে নিন। নিজের হাতে খুব ভালো করে মাংসের গায়ে সমস্ত মশলা মাখিয়ে অন্তত দু’ঘণ্টা ঢেকে রেখে দিন।
এবার গ্যাসে কড়াই বসিয়ে মাঝারি আঁচে ম্যারিনেট করা মাংসটি দিয়ে ঢাকা দিয়ে সেদ্ধ হতে দিন। মিনিট দশেক পর ঢাকা সরিয়ে দেখবেন মশলা থেকে আস্তে আস্তে জল ছাড়তে শুরু করেছে। এরপর স্বাদমতো নুন ও একটু গরম জল মিশিয়ে ফের ঢাকা দিন। মাংস নরম করতে চাইলে প্রেশার কুকারেও এক কাপ গরম জল দিয়ে কয়েকটি সিটি দিয়ে নিতে পারেন।
আসল সিক্রেট ও ফোঁড়নের ম্যাজিক:
মাংস সেদ্ধ হয়ে গেলে অন্য একটি গ্যাসে কড়াই বসিয়ে বেশ খানিকটা ঘি গরম করুন। ঘি গলতে শুরু করলে এক চিমটে চিনি ফেলে দিন। চিনি গলে ক্যারামেলের মতো লালচে রং ধরলে তার মধ্যে ছোট এলাচ, লবঙ্গ, দারচিনির টুকরো ও হিং ফোঁড়ন দিন। এই ফোঁড়নের সুন্দর সুবাসই মৈথিলী মটনের মূল প্রাণ। এরপর ওই সেদ্ধ করা মাংস কড়াইতে ঢেলে মিনিট পাঁচেক ভালো করে কষিয়ে নিন। খুন্তি দিয়ে নাড়তে নাড়তেই দেখবেন ঘন ঝোলের ওপর সুন্দর লাল তেলের স্তর ভেসে উঠেছে।
বাস, আপনার নিজের হাতে তৈরি জিভে জল আনা মৈথিলী খাসির মাংস একেবারে পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত! গরম পোলাও বা ফুলকো লুচির সঙ্গে এটি পরিবেশন করলে পুজোর আসরে সবাই আপনার রান্নার জাদুতে মুগ্ধ হতে বাধ্য।