৩ বছরের নিরন্তর তল্লাশি শেষ! অবশেষে কোকেরনাগ জঙ্গলে নিরাপত্তা বাহিনীর এনকাউন্টারে নিহত শীর্ষ সন্ত্রাসী

জম্মু ও কাশ্মীরের নিরাপত্তা বাহিনী এক ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছে। দীর্ঘ তিন বছর ধরে চলা নিরন্তর খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে বুদগামের কোকেরনাগ জঙ্গল থেকে নিকেশ করা হয়েছে মোস্ট ওয়ান্টেড লস্কর-ই-তৈবা কমান্ডার হাশিম মুসা ওরফে ফৌজিকে। বুধবার সকালে পালমেদান এলাকায় বিশেষ তল্লাশি অভিযান চালিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে নিরাপত্তা বাহিনী। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, এই পাকিস্তানি সন্ত্রাসী ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ডিকেজি, শাহসিতার এবং পাহালগামে সংঘটিত একাধিক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিল।

নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মতে, হাশিম মুসা কেবল সাধারণ কোনো সন্ত্রাসী ছিল না; সে ছিল অত্যন্ত উচ্চ প্রশিক্ষিত একজন বিদেশি লস্কর কমান্ডার। পাকিস্তানের স্পেশাল সার্ভিসেস গ্রুপ (এসএসজি) থেকে কমান্ডো প্রশিক্ষণ নিয়েছিল সে। তার এই উন্নত সামরিক প্রশিক্ষণ এবং পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাকে দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা বাহিনীর নজর এড়িয়ে ঘন জঙ্গলে সক্রিয় থাকতে সাহায্য করেছিল। জীবনের ঝুঁকি এড়াতে সে কখনো পীর পাঞ্চাল পাহাড়ের দুর্গম পথ, আবার কখনো ঘন জঙ্গল ব্যবহার করে দক্ষিণ কাশ্মীরের বিভিন্ন গোপন আস্তানায় গা ঢাকা দিত।

২০২৩ সালের ২১শে ডিসেম্বর পুঞ্চ-রাজৌরি এলাকায় ডেরা কি গলি (ডিকেজি) হামলার মধ্য দিয়ে প্রথম বড় ধরনের নাশকতার সঙ্গে মুসার নাম যুক্ত হয়। সেই অতর্কিত হামলায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর পাঁচ জওয়ান শহিদ ও দুজন গুরুতর আহত হন। এরপর থেকেই ওই জঙ্গল বিদেশি সন্ত্রাসীদের প্রধান অভয়ারণ্যে পরিণত হয়। পরবর্তীকালে, ২০২৪ সালের ৪ মে পুঞ্চের শাহসিতার এলাকায় ভারতীয় বিমান বাহিনীর (আইএএফ) কনভয়ের ওপর নৃশংস হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা, যেখানে একজন জওয়ান শহিদ ও চারজন আহত হন। এই প্রতিটি রক্তক্ষয়ী ঘটনার নেপথ্যেই মুসার প্রত্যক্ষ যোগাযোগ ছিল।

পাহালগাম সন্ত্রাসী হামলার পরেই হাশিম মুসার আসল পরিচয় এবং ছবি প্রথম জনসমক্ষে আসে। একটি গুরুত্বপূর্ণ ছবিতে চারজন সন্ত্রাসীর একটি দলের ডানপাশে তাকে চিহ্নিত করা হয়। এর পরই গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তার সন্ধানে চিরুনি তল্লাশি শুরু করে। বারবার অবস্থান বদল করেও শেষ রক্ষা হয়নি। ‘অপারেশন কারাগ’-এর চূড়ান্ত পর্যায়ে নিরাপত্তা বাহিনী তাকে কোণঠাসা করে ফেলে। দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে এই বিপজ্জনক সন্ত্রাসীকে নির্মূল করতে সক্ষম হলো ভারতীয় জওয়ানরা।