ঋণ করা জুতো পায়ে রঞ্জি জয় থেকে ভারতের জাতীয় দলে অভিষেক! জম্মু ও কাশ্মীরের এই পেসারের রূপকথার লড়াই জানেন কি?

বলা হয়ে থাকে অনুকরণ করতে বুদ্ধিমত্তার প্রয়োজন হয়, আর সেই প্রবচনকেই যেন বাস্তবে সত্যি করে দেখিয়েছেন জম্মু ও কাশ্মীরের তরুণ পেসার আকিব নবী। ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফাস্ট বোলার ডেল স্টেইনের বোলিং অ্যাকশন, রান-আপ এবং উইকেট উদযাপনের ভঙ্গি অন্ধের মতো অনুকরণ করেই নিজের বোলিংকে ধারালো করে তুলেছিলেন তিনি। যার ফলস্বরূপ, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে কেএল রাহুলের হাত থেকে ভারতের অভিষেকের ক্যাপ তুলে নেন আকিব। এর মাধ্যমেই পারভেজ রসুল এবং উমরান মালিকের পর জম্মু ও কাশ্মীরের তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে ভারতের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথচলা শুরু করলেন তিনি।

আকিব নবীর এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে তাঁর নিখুঁত লাইন-লেন্থ এবং দুই দিকেই বল সুইং করানোর অসাধারণ দক্ষতা। ঠিক যেমনটা দেখা যায় মোহাম্মদ শামির ক্ষেত্রে, তেমনই বল সিম এবং সুইং করাতে সমান পারদর্শী আকিব। শুধু লাল বলের ক্রিকেটেই নয়, সীমিত ওভারের ক্রিকেটেও তাঁর পরিসংখ্যান যথেষ্ট ঈর্ষণীয়। পাশাপাশি, দলের প্রয়োজনে লোয়ার-অর্ডারে নেমে ব্যাট হাতেও কার্যকরী অবদান রাখতে সক্ষম তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত হতে চলা আসন্ন ওয়ানডে বিশ্বকাপের দলে আকিব যদি সুযোগ পান, তবে সেখানকার বাউন্সি পিচ তাঁর জন্য মারাত্মক অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে।

তবে এই মুকুট অর্জন করা তাঁর জন্য মোটেও সহজ ছিল না। আকিবের জীবনের লড়াইটা সিনেমার গল্পকেও হার মানায়। তাঁর বাবা একজন সরকারি স্কুলের ইংরেজি শিক্ষক ছিলেন এবং ছেলেকে কঠোর পরিশ্রমী ডাক্তার হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন। ক্রিকেটের প্রতি আকিবের অতিরিক্ত টানের কারণে বাবাকে লুকিয়ে খেলতে হতো এবং বহুবার বকাও খেতে হয়েছে। তবে পরবর্তী সময়ে ছেলের প্রতিভা দেখে তাঁর পরিবার তাকে পূর্ণ সমর্থন জোগায়। অভাবের দিনগুলিতে অনূর্ধ্ব-১৯ ট্রায়ালের জন্য আকিবের কাছে একজোড়া স্পাইক জুতো পর্যন্ত ছিল না। এক সিনিয়র খেলোয়াড়ের কাছ থেকে জুতো ধার করে ট্রায়ালে অংশ নেন তিনি এবং সিলেক্ট হওয়ার পর পুরো টুর্নামেন্ট সেই ধার করা জুতো পরেই খেলেছিলেন। অবশেষে রঞ্জি ট্রফিতে প্রথম বেতন পাওয়ার পর নিজের টাকায় প্রথম স্পাইক জুতো কেনেন এই লড়াকু পেসার। অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে দুই-তিন বছর টানা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পরও নিজের জেদ বজায় রেখেছিলেন আকিব। আর আজ সেই দীর্ঘ সংগ্রামের ফলশ্রুতিতেই ভারতের নীল জার্সিতে ইতিহাস গড়ার হাতছানি তাঁর সামনে।