জন্মদিনেই বিরাট চমক! ম্যাজিশিয়ান লুকে ফিরছেন প্রসেনজিৎ, প্রকাশ্যে এল নতুন ছবির বড় ঘোষণা

বয়স যেন তাঁর কাছে কেবলই একটি সংখ্যা। ঘড়ির কাঁটা পেরিয়ে জীবনের চৌষট্টিটি বসন্ত পার করে ফেললেন টলিউডের অসংবাদিত ‘ইন্ডাস্ট্রি’ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। ষাটের কোঠা পেরিয়েও তাঁর গ্ল্যামার, ফিটনেস ও রূপোলি পর্দার জাদু আজও তরুণ অভিনেতাদের রীতিমতো গোল দিতে প্রস্তুত। শনিবার সকাল থেকেই সহকর্মী, অনুরাগীদের অন্তহীন শুভেচ্ছাবার্তায় ভাসছেন ‘বুম্বা দা’। তবে টলিপাড়ার অভিভাবক হয়ে সবাইকে আগলে রাখার এই স্বভাব তাঁর আজকের নয়; বরং তা জড়িয়ে রয়েছে তাঁর রক্তে এবং রন্ধ্রে, যার গভীরে লুকিয়ে রয়েছে এক চমকপ্রদ শৈশবের গল্প।

কিংবদন্তি ও জাতীয় পুরস্কারজয়ী পরিচালক প্রভাত রায় তাঁর আত্মজীবনী ‘ক্ল্যাপস্টিক’-এ প্রসেনজিতের ছোটবেলার ঠিক তেমনই এক মিষ্টি ও অন্যরকম স্মৃতির কথা তুলে ধরেছিলেন। সেই সময় বোম্বেতে চরম সংগ্রামের দিন কাটাচ্ছেন প্রভাত রায়। পরিচালক অজয় বিশ্বাসের চতুর্থ সহকারী হিসেবে কাজ করার সুবাদে তিনি একবার গিয়েছিলেন তৎকালীন তারকা-অভিনেতা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের জুহু-ভিলে পার্লের ৭ নম্বর রাস্তার ‘তরঙ্গ’ নামের বিখ্যাত বাংলোয়। সেখানে গেট পেরোতেই লনে চোখে পড়ে বছর দশেকের এক মোটাসোটা, গালফোলা বাচ্চা ছেলে— যে তখন দিব্যি ছোট বোন পল্লবীর সঙ্গে খেলছিল। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই পুঁচকে আর কেউ নন, স্বয়ং বিশ্বজিৎ-পুত্র ‘বুম্বা’, যিনি ততদিনে ‘ছোট্ট জিজ্ঞাসা’ ছবিতে অভিনয় করে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন।

পরবর্তীতে বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত প্রচার সচিবের দায়িত্ব পান প্রভাত রায়। এমনই একদিন ‘তরঙ্গ’-এ দুপুরের খাবার খাওয়ার সময় ঘটে এক মজার ঘটনা। বাড়িতে তখন বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায় বা তাঁর স্ত্রী রত্না দেবী কেউ উপস্থিত ছিলেন না। টেবিলে প্রভাত রায়ের মুখোমুখি বসেছিল ১০ বছরের ছোট্ট বুম্বা ও তাঁর বোন। দুপুরের খাবারে মাছের পদ পছন্দ না হওয়ায় প্রভাত রায় গৃহসহায়ককে ডেকে ওমলেট পাওয়া যাবে কি না জানতে চান। অমনি সেই গৃহপরিচারক চেঁচিয়ে হিন্দিতে বলে ওঠেন, “না বাবা না, মেমসাবকে জিজ্ঞেস করতে হবে!” ঠিক সেই মুহূর্তে গৃহপরিচারককে থামিয়ে দিয়ে ছোট্ট বুম্বা অত্যন্ত গম্ভীর ও দায়িত্বশীল গলায় বলে ওঠে, “মেমসাব ঘরে নেই। তুমি ওঁর জন্য ওমলেট নিয়ে এস।”

১০ বছরের একটি বাচ্চার মুখে এমন পরিপক্ব ও দায়িত্বশীল কথা শুনে এক দৌড়ে রান্নাঘরে ছুটেছিলেন সেই থমকে যাওয়া পরিচারক! প্রভাত রায় তাঁকে ‘থ্যাঙ্ক ইউ’ জানালে, ঘাড় ঘুরিয়ে এক চিলতে মিষ্টি হাসি উপহার দিয়েছিল ছোট বুম্বা। পরিচালক প্রভাত রায় তাঁর বইয়ে লিখেছেন, “সেই ছোট্ট ছেলেটা ওই বয়সেই বুঝিয়ে দিয়েছিল কাউকে বিপদে পড়তে দেখলে মুখ ঘুরিয়ে না থেকে পাশে দাঁড়াতে হয়।” ছোটবেলার সেই সহজাত সংস্কারই আজকের প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে পরিণত করেছে টলিপাড়ার প্রকৃত অভিভাবকে। আউটডোরে টেকনিশিয়ানদের খাওয়া-দাওয়ার খোঁজ নেওয়া হোক কিংবা ইন্ডাস্ট্রির যে কোনো সংকট, সবার আগে ত্রাতা হয়ে দাঁড়ানোর এই গুণ তাঁর জন্মসূত্রে পাওয়া।

এদিকে, নিজের ৬৪তম জন্মদিনের এই বিশেষ এবং আনন্দঘন মুহূর্তে অনুরাগীদের এক দুর্দান্ত উপহার দিয়েছেন প্রসেনজিৎ। হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্তের জনপ্রিয় গল্প অবলম্বনে এবং সায়ন্তন ঘোষালের পরিচালনায় আসছে তাঁর নতুন সিনেমা ‘জাদুকর সত্যচরণ’। এই ছবিতে নামভূমিকায় এক জাদুকরের রহস্যময় চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে, যার চিত্রনাট্য কলমে ফুটিয়ে তুলছেন সব্যসাচী চৌধুরী। জন্মদিনে নতুন ছবির এই ঘোষণা যেন টলিপাড়ার উন্মাদনাকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।