‘কোটি কোটি মানুষকে জোর করে চুপ রাখা যায় না!’ আওয়ামী লিগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তোলার দাবিতে হুংকার হাসিনার!

যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী প্রবাসীর বাংলাদেশিদের দেওয়া একটি ভার্চুয়াল ভাষণে বর্তমান প্রশাসন ও সরকারের তীব্র সমালোচনা করলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বর্তমানে এক গভীর ও নজিরবিহীন সংকটের মধ্য দিয়ে চলেছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন দেশের জন্য কোনো সমৃদ্ধি বা উন্নতির পথ সুগম করতে পারেনি, বরং দেশের প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও দুর্বল করে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

নাম না করে বর্তমান তারেক রহমান সরকারকে একহাত নিয়ে হাসিনা বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে, সংখ্যালঘুরা নিজেদের আগের মতো নিরাপদ বোধ করছেন না এবং বহু রাজনৈতিক কর্মীকে বাধ্য হয়ে আত্মগোপন করতে হচ্ছে। সাধারণ গৃহস্থালি থেকে শুরু করে শিল্পকারখানা—সবক্ষেত্রেই গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। কারখানাগুলি মুখ থুবড়ে পড়ছে, কৃষকরা সময়মতো সার পাচ্ছেন না, কর্মীরা কাজ হারিয়ে দিশাহারা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধির ফলে বহু পরিবারের পক্ষে দৈনন্দিন খরচ চালানোই অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিজের দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সমালোচনা থাকতেই পারে, কিন্তু কোটি কোটি মানুষকে জোর করে চুপ করিয়ে দিয়ে যদি কেউ দাবি করে যে জনগণ দলটিকে প্রত্যাখ্যান করেছে, তবে তা সম্পূর্ণ ভুল। গণতন্ত্র আজ বাংলাদেশে চূড়ান্তভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি জোরালো আবেদন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ শাসনভার কে চালাবে তা কোনো বিদেশি রাষ্ট্র ঠিক করে দিক—এমনটা তাঁরা চান না। তবে বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানবাধিকার রক্ষা, রাজনৈতিক সমানাধিকার, বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা এবং সংখ্যালঘুদের পূর্ণ নিরাপত্তার দাবিতে আন্তর্জাতিক বিশ্বকে সোচ্চার হওয়া উচিত। পাশাপাশি, আওয়ামী লীগের ওপর থেকে বেআইনি নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহার করার দাবি তোলার জন্যও আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।