মাঝআকাশে পাইলটদের হাতাহাতি! ১৮০ জন যাত্রী নিয়ে সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ ফ্লাই দুবাই বিমানের

দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবগামী ‘ফ্লাই দুবাই’ (flydubai)-এর একটি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমানে মাঝআকাশে ভয়াবহ আতঙ্ক ও চরম বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়েছে। উত্তর সৌদি আরবের আকাশসীমার ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় বিমানটি হঠাৎ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে তার নির্ধারিত গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়। প্রায় ১৮০ জন যাত্রী ও ক্রু সদস্যকে বহনকারী এই বিমানটি পরবর্তীতে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে সম্পূর্ণ নিরাপদে জরুরি অবতরণ করতে সক্ষম হয়।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইটরাডার২৪’ (Flightradar24)-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, উড়ন্ত অবস্থায় বিমানটির অভ্যন্তরে হঠাৎ তীব্র গোলযোগের সৃষ্টি হয়। ককপিট থেকে ট্রান্সপন্ডারের মাধ্যমে জরুরি সিগন্যাল হিসেবে ‘৭৭০০’ কোড পাঠানো হয়। ট্র্যাকিং ডেটায় স্পষ্ট দেখা যায় যে, বিমানের গতিবেগ এবং উচ্চতায় অত্যন্ত দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে এবং এটি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম উচ্চতায় অর্থাৎ প্রায় ১৫,০০০ ফুট ওপর দিয়ে উড়তে বাধ্য হচ্ছে। কিছু সময় পর বিমানটি রাডার ও ট্র্যাকিং সাইট থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও রহস্যময় করে তোলে।

একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে যে, ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে প্রচণ্ড হাতাহাতি ও শারীরিক সংঘাতের কারণেই এই আপৎকালীন সিগন্যাল সক্রিয় করা হয়েছিল। সৌভাগ্যবশত, বিমানটি কোনও ধরনের সন্ত্রাসবাদী আক্রমণ বা ছিনতাইয়ের ঘটনার শিকার হয়নি বলে প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত করা হয়েছে। ঘটনার খবর তেল আবিবে পৌঁছতেই মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ইসরায়েলের নিরাপত্তা তাৎক্ষণিকভাবে জোরদার করা হয় এবং দেশের আকাশসীমা রক্ষা করতে বিমান বাহিনীর (IAF) ফাইটার জেট স্কোয়াড্রনগুলোকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়। একই সময়ে, সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে জরুরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বিনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাৎজ।

প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, বিমানে থাকা ১৮০ জন যাত্রী ও কর্মীবৃন্দ সম্পূর্ণ সুরক্ষিত এবং অক্ষত রয়েছেন। তবে এই অস্বাভাবিক ও নজিরবিহীন ঘটনার প্রকৃত কারণ কী ছিল এবং এটি নিরাপত্তাজনিত কোনও গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে আন্তর্জাতিক স্তরে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।