আইওসি-র হাত ধরে কি রাজ্যে আসছে দ্বিতীয় হলদিয়া পেট্রোকেম? বড় ঘোষণা ঘিরে মিলল বড় ইঙ্গিত

পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে এক বড় পদক্ষেপ করল নতুন রাজ্য সরকার। পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রধান শিল্পকেন্দ্র হলদিয়ায় দ্বিতীয় একটি পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্ট গড়ার প্রস্তাব দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর উপস্থিতিতে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই জোরালো দাবি তোলা হয়। পাশাপাশি, বর্তমান হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালের সম্প্রসারণ নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সমস্ত প্রস্তুতি চূড়ান্ত করার কথাও জানানো হয়েছে।

জানা গিয়েছে, আসন্ন ‘ইন্ডিয়া এনার্জি উইক ২০২৭’ সফলভাবে আয়োজনের প্রস্তুতি পর্যালোচনা করতে রাজ্য সফরে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী। সেই বৈঠকেই হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালের এক্সটেনশন ও নতুন প্ল্যান্ট গড়ার প্রসঙ্গটি গুরুত্ব পায়। বর্তমান ইউনিটের সম্প্রসারণের জন্য ১৭৫ একর জমির প্রয়োজন ছিল, যার মধ্যে ৮৫ একর জমি ইতিমধ্যেই হলদিয়া ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (এইচডিএ) প্রদান করেছে। বাকি জমির সংস্থান করতে কলকাতা পোর্ট ট্রাস্ট (কেওপিটি) ও ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের (আইওসি) সঙ্গে সরাসরি আলোচনা চালিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, বেসরকারি কোনো সংস্থাকে জমি দেওয়ার আগে নির্দিষ্ট নিয়ম ও একই রেটে আইওসি-র প্রথম অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।

মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। রাজ্য সরকার প্রস্তাব পাঠালে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তা খতিয়ে দেখে বোর্ড গঠন করে অনুমোদন দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান যে, রাজ্যে আরেকটি পেট্রোকেমিক্যাল হাব গড়ে তোলার এটি এক ‘গোল্ডেন অপরচুনিটি’ বা সোনালী সুযোগ। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে সমস্ত প্রয়োজনীয় জমির ব্যবস্থা করে দেওয়ার পূর্ণ আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই ন্যাপথা-ভিত্তিক পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্টে ২০০১ সাল থেকে উৎপাদন শুরু হয়। এখানে পলিপ্রোপিলিন (পিপি), হাই ডেনসিটি পলিইথিলিন (এইচডিপিই)-এর মতো পলিমার এবং বেনজিন, বুটাডিয়েন ও মোটর স্পিরিটের মতো বিভিন্ন অত্যাবশ্যকীয় রাসায়নিক উৎপাদিত হয়। বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই কারখানায় উৎপাদিত পণ্য ভারত ছাড়িয়ে বিশ্বের প্রায় ৬০টিরও বেশি দেশে সফলভাবে রফতানি করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে রাজ্যে বড় অঙ্কের লগ্নি আসার পাশাপাশি বেকার যুবকদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এখন দেখার, কেন্দ্রীয় সরকার ও আইওসি বোর্ড এই মেগা প্রকল্প নিয়ে পরবর্তী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।