বাড়ির উঠোনে ডুবে গাড়ি, জলের মধ্যে ভেসে বেড়াচ্ছে সাপ! ব্যাংককবাসীর ত্রাহি ত্রাহি রব

বৃষ্টির শহর ব্যাংকক এখন ভয়ংকর বন্যার কবলে পড়ে কার্যত জলের শহরে পরিণত হয়েছে। লাগাতার প্রবল বর্ষণে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের বিস্তীর্ণ এলাকা এখন জলমগ্ন। Flood Control Centre-এর তথ্য অনুযায়ী, এই সপ্তাহের ভয়াবহ বন্যায় প্রায় ৩ লক্ষ ২৯ হাজার পরিবার অর্থাৎ আনুমানিক ৭ লক্ষ মানুষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। শহরের প্রধান রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে আবাসিক এলাকা—সব জায়গাতেই থইথই করছে জল।

টানা বৃষ্টির জেরে জলমগ্ন ব্যাংককের একাধিক রাস্তায় জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, পার্কিং এলাকায় জলের তলায় ঢাকা পড়ে গিয়েছে একাধিক গাড়ি। কোথাও আবার গাড়ির ছাদটুকু মাত্র জলের উপরে উঁকি দিচ্ছে। চরম বিপদের মুখেও কিছু মানুষকে গভীর জলের মধ্যে মোটরবাইক নিয়ে যাতায়াত করতে দেখা গেছে। এমনকি জলমগ্ন রাস্তায় জেট স্কি চালানোর একটি চাঞ্চল্যকর ভিডিও প্রকাশ্যে এলে পুলিশ চালককে গ্রেপ্তার করে। পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ, তা বোঝা যায় যখন দেখা যায় ব্যাংককের রাস্তায় জলের স্রোতে সাপ ও মাছ ভেসে বেড়াচ্ছে।

পূর্ব ব্যাংককের বাং কাপি (Bang Kapi) এলাকায় জল প্রায় এক মিটার পর্যন্ত উঁচুতে উঠে গেছে। এমন চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও জীবন বাঁচানোর তাগিদে বাজার চালু রাখার চেষ্টা চালিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। প্লাস্টিক ও ফোমের বাক্স বা অন্যান্য ভাসমান পাত্রের সাহায্য নিয়ে জিনিসপত্র এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যেতে দেখা গেছে তাঁদের।

প্রকৃতির এই তাণ্ডবের প্রভাব থেকে বাদ যায়নি ব্যাংককের বিখ্যাত সুবর্ণভূমি (Suvarnabhumi) বিমানবন্দরও। বন্যার কারণে গ্রাউন্ড-হ্যান্ডলিং কর্মীরা সময়মতো পৌঁছতে না পারায় বিমানবন্দরে তৈরি হয়েছে বিপুল ব্যাগেজ জট। প্রায় ছ’হাজার ব্যাগ সময়মতো যাত্রীদের হাতে পৌঁছয়নি। ব্যাগেজ কার্টের সমস্যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুললে যাত্রীরা দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে বাধ্য হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাই এয়ারওয়েজের কর্মী ও ম্যানেজারদের পাশাপাশি নামানো হয় সামরিক বাহিনীকেও। যাঁদের অপেক্ষা করার উপায় ছিল না, তাঁদের ডেলািড ব্যাগেজ রিপোর্ট করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সোমবারে জল কিছুটা নামতে শুরু করলেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা এখনও জলের তলায় রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারি অফিসগুলির জন্য সোমবার ও মঙ্গলবার বিশেষ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। থাইল্যান্ডের আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দিনেও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে নতুন করে হড়পা বান ও পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সবমিলিয়ে, ব্যাংককের এই বিপর্যয় কাটিয়ে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে বেশ কিছুদিন সময় লাগবে বলেই মনে করা হচ্ছে।