পরিচয়পত্র ছাড়াই হোমস্টেতে এন্ট্রি! গুয়াহাটিতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর রহস্যমৃত্যুতে চাঞ্চল্য, গ্রেফতার প্রেমিক

গুয়াহাটির ধারাপুর এলাকার একটি হোমস্টেতে ২২ বছর বয়সি এক তরুণীর রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে পুরো রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের মনে দানা বাঁধছে মারাত্মক সংশয়—এটি কি আদৌ আত্মহত্যা নাকি অত্যন্ত সুকৌশলে করা একটি খুন? ঘটনার জেরে মৃতার সঙ্গে থাকা ২৬ বছর বয়সি এক যুবককে গ্রেফতার করেছে অসম পুলিশ। অন্যদিকে, এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই জালুকবাড়ি থানাধীন অন্য একটি হোমস্টে থেকেও আরও এক যুবতীর রহস্যজনক উদ্ধারের ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত তরুণী গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রী ছিলেন। কিছুদিন আগে তিনি এক পুরুষসঙ্গীকে সঙ্গে নিয়ে ধারাপুরের ওই হোমস্টেতে উঠেছিলেন। কিন্তু সবথেকে চাঞ্চল্যকর বিষয় হল, হোটেল বা হোমস্টের নির্দিষ্ট নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কোনো রকম বৈধ পরিচয়পত্র বা দরকারি নথি জমা না দিয়েই তাঁদের সেখানে থাকার অনুমতি দিয়েছিল হোমস্টে কর্তৃপক্ষ। পশ্চিম গুয়াহাটির ডিসিপি বলিন দেওরি এই গাফিলতির কথা প্রকাশ্যে এনেছেন।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, হোমস্টেতে ওঠার পর থেকেই ওই তরুণী ও তাঁর সঙ্গীর মধ্যে মাঝেমধ্যেই বচসা ও অশান্তি শুরু হতো। এমনকি ঘটনার দিন রাতেও দুজনের মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটি হয়। আতঙ্কিত ও বিপন্ন বোধ করে ওই তরুণী সেই রাতেই নিজের মাকে ফোন করে সমস্ত ঘটনা জানান এবং ঝগড়ার কথা উল্লেখ করেন। এর কিছুক্ষণ পরেই হোমস্টের ভেতর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়।
প্রথমে হোমস্টে কর্তৃপক্ষের তরফে এটিকে আত্মহত্যার ঘটনা বলে চালানো হলেও, পুলিশি তদন্তে সামনে আসে একের পর এক গা শিউরে ওঠা তথ্য। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে মৃতার শরীরে একাধিক আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া গেছে। যা দেখে তদন্তকারী অফিসারদের জোরালো অনুমান, তরুণীকে নির্মমভাবে মারধর বা খুন করার পর আত্মহত্যার রূপ দিতে দেহটি ঝুলিয়ে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। যদিও ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত পুলিশ নিশ্চিত করে কিছু বলতে চাইছে না। তবে ধৃত পুরুষসঙ্গী পুলিশের কাছে দাবি করেছে যে তরুণী নিজেই গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন। কিন্তু ধৃতের বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি মেলায় তাকে হেফাজতে নিয়ে তীব্র জেরা চলছে।
ঘটনার গভীরে পৌঁছাতে হোমস্টে ও তার আশপাশের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। পাশাপাশি, হোমস্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও রেজিস্টার খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দায়িত্বে থাকা কর্মীদেরও দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে পরিচয়পত্র ছাড়া অতিথিদের থাকতে দেওয়া হলো?
এই লোমহর্ষক ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গুয়াহাটির জালুকবাড়ি থানার অন্তর্গত সানফ্লাওয়ার হোমস্টে থেকে আরও এক যুবতীর রহস্যজনক উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ মহলে চরম তৎপরতা শুরু হয়েছে। ওই যুবতীকে যে ব্যক্তি হোমস্টেতে নিয়ে এসেছিল, তাকেও ইতিমধ্যে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গাফিলতির অভিযোগে হোমস্টের ম্যানেজারকে আটক করা হয়েছে। পরপর দুটি হোমস্টে কাণ্ডে গুয়াহাটির আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।