তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদের বিরুদ্ধে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলার গুরুতর অভিযোগ! কি বলছে হাইকোর্ট?

রানিগঞ্জের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা আত্মসাৎ ও হুমকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভা সাংসদ তথা প্রাক্তন তারকা ক্রিকেটার কীর্তি আজাদের বিরুদ্ধে। এই চাঞ্চল্যকর মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট থেকে সাময়িক স্বস্তি পেলেন তিনি। সোমবার বিচারপতি কৌশিক চন্দ এই মামলার শুনানিতে সিআইডিকে আগামী ছয় মাস সাংসদের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর পদক্ষেপ না করার নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে তদন্তের স্বার্থে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর ভবানী ভবনে তাঁকে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ২১ মে রাহুল সিং নামের এক ব্যবসায়ী রানিগঞ্জ থানায় এই এফআইআর দায়ের করেছিলেন। অভিযোগ ছিল, বিশ্বকাপজয়ী প্রাক্তন ক্রিকেটার কীর্তি আজাদ ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা দাবি করেছিলেন এবং তাঁকে নানাভাবে ভয়প্রদর্শন ও হুমকি দিয়েছিলেন। ঘটনার প্রায় এক বছর পর এই অভিযোগ দায়ের হওয়ায় পুরো বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল শুরু হয়। এই এফআইআর সম্পূর্ণ খারিজ করার আবেদন জানিয়ে আইনি লড়াইয়ে নামেন কীর্তি আজাদ এবং কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।

সোমবার মামলার শুনানির সময় আদালত কক্ষে এক অভিনব দৃশ্য দেখা যায়। যে গোপন অডিয়ো ক্লিপিংয়ের ওপর ভিত্তি করে এই অভিযোগ আনা হয়েছে, তা স্বয়ং বিচারপতি কৌশিক চন্দ এজলাসে চালিয়ে শোনেন। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ শোনার পরেও সেই অডিয়োতে অভিযোগের সপক্ষে জোরালো কোনো প্রমাণ বা তথ্য খুঁজে পাননি বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। বিচারপতির এই পর্যবেক্ষণে সাময়িকভাবে বড় স্বস্তি পেয়েছেন অভিযুক্ত সাংসদ।

তবে আদালত কেবল স্বস্তি দিয়েই ক্ষান্ত থাকেনি, তদন্ত প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য বেশ কিছু কড়া শর্তও আরোপ করেছে। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর ঠিক দুপুর ১২টার সময় ভবানী ভবনে সিআইডির সামনে হাজিরা দিতে হবে কীর্তি আজাদকে। যদি সিআইডি আধিকারিকরা এরপরও তাঁকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান, তবে তার অন্তত সাত দিন আগে তাঁকে লিখিত নোটিশ পাঠাতে হবে। তাছাড়া এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ছয় সপ্তাহ পর। সেই দিনই আদালতে সম্পূর্ণ তদন্তের রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি কৌশিক চন্দ।

সাংসদের পক্ষের বিশিষ্ট আইনজীবী সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতের সওয়ালে জোরালোভাবে দাবি করেন যে, কীর্তি আজাদ একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত লোকসভা সদস্য এবং তাঁকে রাজনৈতিকভাবে টার্গেট করা হচ্ছে। তিনি আদালতকে স্পষ্ট জানান যে, তাঁর মক্কেল জনপ্রতিনিধি হিসেবে যে কোনো তদন্তের মুখোমুখি হতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ভয়েস স্যাম্পল বা কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতেও তিনি এক পায়ে খাড়া রয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকলে তিনি অবশ্যই যাবেন, কারণ কারও কাছ থেকে লুকিয়ে থাকার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। সার্বিক পরিস্থিতিতে এই হাইপ্রোফাইল মামলার পরবর্তী মোড় কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই এখন নজর সকলের।