ব্যর্থতা ঢাকতে মহাভারতের শরণাপন্ন স্মৃতি মান্ধানা! মানসিক শক্তি বাড়াতে কোন অভ্যাস তাঁর পছন্দ?

ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের তারকা ব্যাটার স্মৃতি মান্ধানা মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময় ও মানসিক চাপ সামলানোর নানা অজানা দিক নিয়ে সম্প্রতি মুখ খুলেছেন। পেশাদার ক্রীড়াবিদদের জীবনে উত্থান-পতন নিত্যদিনের ঘটনা। তবে খারাপ সময় এলে কীভাবে নিজেকে সামলান, তা নিয়ে এক অভিনব অভ্যাসের কথা জানিয়েছেন তিনি। মানসিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে এবং কঠিন সময় পার করতে তিনি নিয়মিত মহাভারতের পর্ব দেখেন এবং ভগবদ্গীতার দর্শনকে নিজের জীবনের অন্যতম পথপ্রদর্শক হিসেবে মেনে চলেন।
স্মৃতির মতে, জীবনের কোনো খারাপ ঘটনায় চিরকাল আটকে থাকা উচিত নয়। অতীতে যা ঘটে গেছে, তা বদলানো সম্ভব নয়, তাই সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়াই আসল কাজ। মহাভারত কেবল কোনো ঐতিহাসিক মহাকাব্য নয়, বরং এতে মানবজীবনের দ্বন্দ্ব, ভুল সিদ্ধান্ত, কর্তব্য এবং নৈতিকতার এমন বহু দিক রয়েছে যা জীবনের যেকোনো পরিস্থিতির সঙ্গে মিলে যায়। কঠিন দিনে ঘুমাতে যাওয়ার আগে মহাভারতের একটি এপিসোড দেখা তাঁর কাছে মানসিকভাবে থেরাপির মতো কাজ করে। এছাড়া তাঁর কাছে ভগবদ্গীতার পকেট সংস্করণও থাকে, যা তাঁকে শান্ত থাকতে সাহায্য করে।
স্মৃতির জীবনদর্শনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—ফল বা ফলাফলের ওপর অতিরিক্ত আসক্তি না রেখে নিজের কাজ বা প্রক্রিয়ার ওপর ১০০ শতাংশ মনোযোগ দেওয়া। ক্রিকেটের মতো অনিশ্চিত খেলায় এই মানসিকতা অত্যন্ত জরুরি। অনেক সময় ভালো শট খেলেও ব্যাটার আউট হয়ে যেতে পারেন, যা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তাই নিজের হাতে থাকা বিষয়গুলোর ওপর ফোকাস করা এবং ব্যর্থতা নিয়ে অতিরিক্ত ভেবে না কাটানোই বুদ্ধিমানের কাজ। ভুল মানুষেরই হয়, কিন্তু সেই ভুলের মধ্যে আটকে না থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেকে উন্নত করা প্রয়োজন।
এছাড়াও, জীবনের সমস্ত পরিস্থিতি মানুষের পরিকল্পনা অনুযায়ী চলে না। অন্য মানুষের আচরণ বা অপ্রত্যাশিত ঘটনা নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় না, তাই যা পরিবর্তন করা অসম্ভব তা নিয়ে অতিরিক্ত না ভেবে ভবিষ্যতের পদক্ষেপে নজর দিতে হবে। পাশাপাশি, স্মৃতির মতে, খারাপ সময়ে মানুষের অতিরিক্ত সমবেদনা বা করুণা অনেক সময় আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয়। তাই কাউকে ‘বেচারা’ ভাবার বদলে তাকে নিজের শক্তিতে ঘুরে দাঁড়ানোর জায়গা দেওয়া উচিত। মহামারীর কঠিন পর্ব বা বিশ্বকাপের বেদনাদায়ক হারের মতো কঠিন রাতগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে স্মৃতি এটাই শিখেছেন যে, কোনো খারাপ সময়ই চিরস্থায়ী হয় না; ধৈর্য ও সঠিক মানসিকতাই ঘুরে দাঁড়ানোর চাবিকাঠি।