রাতের অন্ধকারে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো শতবর্ষের পুরোনো মসজিদ! ইকরা হাসানের বিস্ফোরক মন্তব্যে চরম উত্তেজনা

উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর কালেক্টরেট চত্বরের ভেতরে একটি প্রাচীন মসজিদ ভেঙে ফেলাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিরোধীদের অবস্থান আরও শক্ত করে সমাজবাদী পার্টির (এসপি) কাইরানা অঞ্চলের সংসদ সদস্য ইকরা হাসান সরাসরি রাজ্য প্রশাসন এবং ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন। সম্প্রতি সাহারানপুরে অনুষ্ঠিত একটি বিশেষ ‘পিডিএ’ (PDA) জনসভায় যোগ দিয়ে ইকরা হাসান অত্যন্ত জোরালোভাবে ঘোষণা করেছেন যে, সাহারানপুরের সেই নির্দিষ্ট জমিতেই মসজিদ পুনরায় নির্মিত হবে এবং তা যেকোনো মূল্যে নির্মিত হবেই। তাঁর এই হুংকারমূলক বক্তব্য বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে এবং রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইকরা হাসান আরও অভিযোগ করেছেন যে, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শক্তি ও প্রশাসন সুকৌশলে সাহারানপুরের এই মসজিদ সংক্রান্ত বিতর্ককে সামনে এনে এলাকায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধানোর চক্রান্ত করেছিল। তাঁদের মূল উদ্দেশ্য ছিল নিরীহ ও তরুণ যুবকদের মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে জেলে পাঠানো, কিন্তু সাধারণ মানুষের সতর্কতার কারণে সেই গভীর ষড়যন্ত্র শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি ব্যর্থ হয়ে গেছে। এর পাশাপাশি দেশের বিতর্কিত অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি (UCC) প্রসঙ্গ টেনেও কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারকে তীব্র নিশানা করেছেন এই তরুণ এসপি সাংসদ। তাঁর মতে, সরকার সুনির্দিষ্টভাবে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল ও জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে হীন রাজনৈতিক ফায়দা তোলার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
উল্লেখ্য, সাহারানপুর কালেক্টরেট চত্বরের অভ্যন্তরে অবস্থিত ওই বিতর্কিত মসজিদটির আইনি বৈধতা ও জমির মালিকানা সংক্রান্ত মামলাটি এতদিন ধরে নিম্ন আদালতে বিচারাধীন ছিল। রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোরালো দাবি করা হয়েছিল যে, মুসলিম পক্ষ সম্পূর্ণ বেআইনি উপায়ে সরকারি জমি জবরদখল করে এই ধর্মীয় কাঠামোটি নির্মাণ করেছে। এর বিপরীতে মুসলিম পক্ষের আইনি প্রতিনিধিরা জোরালো যুক্তি দিয়েছিলেন যে, সংশ্লিষ্ট জমিটি সম্পূর্ণভাবে ওয়াকফ বোর্ডের মালিকানাধীন এবং সেখানে দীর্ঘ একশো বছরেরও বেশি সময় ধরে একটি ঐতিহাসিক মসজিদ সগৌরবে দাঁড়িয়ে ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত স্থানীয় আদালত মুসলিম পক্ষের সমস্ত আইনি যুক্তি ও দলিলপত্র খারিজ করে দেয়। আদালতের সেই রায়ের পরই তড়িঘড়ি করে জেলা প্রশাসন রাতারাতি বুলডোজার চালিয়ে আস্ত মসজিদটি সম্পূর্ণ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়।
ইকরা হাসানের তীব্র অভিযোগ অনুযায়ী, জেলা আদালতের এই বিতর্কিত আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যথাযথ আইনি আপিল করার জন্য মুসলিম পক্ষের অন্তত বাইশ দিন সময় পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জেলা প্রশাসন এবং উত্তরপ্রদেশ সরকার বিরোধীদের আইনি লড়াইয়ের ন্যূনতম সুযোগটুকুও না দিয়ে চরম তড়িঘড়ি করে রাতের অন্ধকারে মসজিদটি বুলডোজার দিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়। তাঁর স্পষ্ট দাবি, ইচ্ছাকৃতভাবে স্থানীয় স্তরে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করার লক্ষ্যেই রাজ্য সরকার এই বেপরোয়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এমনকি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে যাতে তিনি বা অন্য কোনো বিরোধী নেতা সমর্থক পৌঁছাতে না পারেন, তার জন্য তাঁকে কার্যত গৃহবন্দী করে রাখার মতো অগণতান্ত্রিক কৌশলও নেওয়া হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।