পুজোর আগেই পদ্মশিবিরে বিরাট ভাঙন নাকি মহাবিস্ফোরণ? দলবদল নিয়ে এনসিপিআই সাংসদের চাঞ্চল্যকর দাবিতে শোরগোল!

রাজ্য রাজনীতিতে ফের এক সম্ভাব্য রাজনৈতিক পালাবদলের জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ এবং বর্তমানে এনসিপিআই (NCPI) সাংসদ জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়ার সাম্প্রতিক একটি মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, আসন্ন দুর্গাপূজার ঠিক আগেই কিংবা পুজোর পরপরই এনসিপিআই-এর এক বিরাট অংশ ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপিতে যোগদান করতে চলেছে। এই বিস্ফোরক দাবি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক করিডোরে গুঞ্জন শুরু হয়েছে যে, তবে কি ক্ষমতার সমীকরণে বড় কোনো ওলটপালট ঘটতে চলেছে?

সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলে জগদীশ বসুনিয়া অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী সুরে জানান যে, তাঁদের দলের মোট ১৭ জন সাংসদ খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে নাম লেখাতে চলেছেন। তবে দলের সমস্ত সংখ্যালঘু সাংসদরা সরাসরি এই জোড়ে নামবেন না। তাঁর কথায়, এনসিপিআই-এর ৩ জন সংখ্যালঘু সাংসদকে এই দলবদলের বাইরে রাখা হচ্ছে। আবু তাহের এবং খলিলুর রহমানের মতো সংখ্যালঘু নেতারা তাঁদের নিজ নিজ এলাকার জনবিন্যাসের কথা মাথায় রেখে সরাসরি বিজেপিতে যোগ না দিলেও, তাঁরা পরবর্তীতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব পাওয়ার শর্তে জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট বা এনডিএ-কে বাইরে থেকে বা ভিন্ন কৌশলে সমর্থন জানাবেন।

আইনি জটিলতা এড়ানোর বিষয়টি স্পষ্ট করে জগদীশ বসুনিয়া জানান যে, দলত্যাগ বিরোধী আইন থেকে বাঁচতে ন্যূনতম সংখ্যার যে আইনি বাধ্যবাধকতা থাকে, তা তাঁদের পকেটে রয়েছে। সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী মোট ২০ জন সাংসদের মধ্যে অন্তত ১৪ জন দল ছাড়লে বা অন্য দলে যোগ দিলে দলত্যাগ বিরোধী আইন প্রযোজ্য হয় না। সেদিক থেকে বিচার করলে তাঁদের দলে বর্তমানে ১৭ জন সাংসদ প্রস্তুত রয়েছেন, ফলে তাঁদের বিরুদ্ধে দলবদলের আইনি খাঁড়া ঝুলবে না বলেই তিনি দাবি করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, জগদীশ বসুনিয়ার এই ধরনের প্রকাশ্য মন্তব্য কেবল জল্পনা বাড়াচ্ছে না, বরং বিরোধী শিবিরের অন্দরে সমন্বয়ের অভাব ও ফাটলকেও স্পষ্ট করে তুলছে। উৎসবের মরশুমের ঠিক আগে এই ধরনের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের গুঞ্জন রাজ্য তথা জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। এখন দেখার বিষয়, পুজোর আগে সত্যিই এই দলবদল বাস্তবে রূপ নেয় কি না এবং এর ফলে ক্ষমতার অন্দরে কী ধরনের বড় পরিবর্তন আসে।