সালারে পুলিশ-গ্রামবাসী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ! বোমা ও টিয়ার গ্যাসের লড়াইয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন এএসআই

মুর্শিদাবাদের সালার থানার অন্তর্গত খাঁড়েরা গ্রামে পুলিশ ও স্থানীয় গ্রামবাসীদের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী ও নৃশংস খণ্ডযুদ্ধকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গত রবিবার গভীর রাত পর্যন্ত চলা এই সংঘর্ষ ও লাগাতার বোমাবাজির ঘটনায় সালার থানার একজন এএসআই পদমর্যাদার পুলিশকর্মীসহ মোট তিনজন জখম হয়েছেন। গুরুতর আহত ওই এএসআই-এর নাম সাদেক আলি। বর্তমানে তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে চিকিৎসকদের মতে তিনি মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। এই অপ্রত্যাশিত ও বড়সড় সহিংসতার খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে ছুটে যান মুর্শিদাবাদ জেলার পুলিশ সুপার শচীন মক্কার। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কান্দি, বড়ঞা ও খড়গ্রামসহ মোট চারটি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং বহরমপুর থেকে জেলা পুলিশের বিশেষ কমব্যাট ফোর্সকে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে গ্রামবাসীদের লক্ষ্য করে একাধিক টিয়ার গ্যাসের শেল ফাটানো হয়। তবে এর পাশাপাশি পুলিশের বিরুদ্ধে গভীর রাতে ও পরদিন সকালেও বেশ কয়েকটি বাড়িঘরে ভাঙচুর চালানোর গুরুতর অভিযোগ তুলেছে স্থানীয় গ্রামবাসীরা। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পুলিশ কাউকে পাকড়াও করতে না পারলেও তল্লাশি অভিযান তীব্রতর করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে যে, রবিবার রাতে খাঁড়েরা গ্রামের একটি নির্দিষ্ট এলাকায় অবৈধভাবে জুয়ার আসর বসেছিল। সেই গোপন খবর পাওয়ার পরই সালার থানার পুলিশ বাহিনী অতর্কিত হানা দেয় সেই আসরে। পুলিশ সূত্রে প্রকাশ, এই আকস্মিক হানা ও হস্তক্ষেপে ক্ষুব্ধ হয়ে জুয়ার আসরে উপস্থিত উত্তেজিত গ্রামবাসীরা চড়াও হয় পুলিশের ওপর। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং শুরু হয়ে যায় দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ খণ্ডযুদ্ধ। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি বোমা ছুড়তে শুরু করে গ্রামবাসীরা। সেই শক্তিশালী বোমার আঘাতে সালার থানার এএসআই সাদেক আলি ছাড়াও আরও দুই পুলিশ কর্মীর পায়ে বোমার স্প্লিন্টার ঢুকে তাঁরা গুরুতর জখম হন। রাতের অন্ধকারে গোটা গ্রাম রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং চারদিকে মুহুর্মুহু বোমাবাজির শব্দে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। রাতের দিকে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী গ্রামে প্রবেশ করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সোমবার সকালেও এই চরম উত্তেজনার রেশ কাটেনি। ঘটনার জেরে খাঁড়েরা গ্রামটি বর্তমানে প্রায় পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। আতঙ্কিত গ্রামবাসীদের একাংশের অভিযোগ, সোমবার সকাল থেকেও পুলিশ গ্রামে প্রবেশ করে যত্রতত্র ভাঙচুর চালাচ্ছে, যার ফলে চরম ভীতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন গ্রামের মহিলা ও শিশুরা। গোটা এলাকায় এখনও থমথমে ও ভারী পরিবেশ বজায় রয়েছে।
এই প্রসঙ্গে মুর্শিদাবাদ জেলার পুলিশ সুপার শচীন মক্কার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত ও বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন যে, যারা পুলিশের ওপর এই পরিকল্পিত ও নৃশংস হামলা চালিয়েছে, তাদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীরা কোন রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় রয়েছে, তা দেখা হচ্ছে না; বরং সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে প্রতিটি অপরাধীকে চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে এবং সেই অনুযায়ী কঠোর আইনি প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।