চ্যাম্পিয়ন হয়েও ট্রফি ছাড়াই মাঠ ছাড়ল ভারত! হরমনপ্রীতদের চরম প্রতিবাদের আসল কারণ কী?

সূর্যকুমার যাদবের দেখানো পথেই এবার হাঁটলেন হরমনপ্রীত কৌর। ২০২৬ মহিলা এশিয়া কাপের শিরোপা জিতেও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (ACC) প্রধান তথা পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভির হাত থেকে ট্রফি নিতে সরাসরি অস্বীকার করল ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল। এর ফলে গত রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ফাইনাল ম্যাচ শেষের পর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তৈরি হয় অভূতপূর্ব এক অচলাবস্থা।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন পিসিবি (PCB) প্রধান ও বর্তমানে এসিসি-র চেয়ারম্যান মহসিন নকভি। ফাইনাল ম্যাচ শেষ হওয়ার ঠিক কিছুক্ষণ আগে তিনি স্টেডিয়ামে এসে পৌঁছান এবং বিজয়ী ভারতীয় দলের হাতে ব্যক্তিগতভাবে চ্যাম্পিয়নশিপ ট্রফি তুলে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কিন্তু ভারতীয় দল তা গ্রহণে সাফ মানা করে দিলে অচলাবস্থা তুঙ্গে ওঠে। বন্ধ থাকে ট্রফি দেওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া, আর পর্দার আড়ালে চলতে থাকে টানা আলোচনা।
দীর্ঘ নাটকের পর নকভি কেবল রানার্স-আপ দল শ্রীলঙ্কার হাতে পুরষ্কারের চেক তুলে দেন। সেই সময় মঞ্চে এমিরেটস ক্রিকেট বোর্ড ও টাইটেল স্পনসরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকলেও, স্টেডিয়ামে উপস্থিত বিসিসিআই (BCCI) সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া এবং সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লা মঞ্চেই ওঠেননি। তাঁরা সোজা মাঠে গিয়ে ক্রিকেটারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। শেষ পর্যন্ত বিজয়ী ট্রফি ও মেডেল ছাড়াই শেষ হয় এশিয়া কাপের পুরস্কার বিতরণী পর্ব।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের পুরুষদের এশিয়া কাপ ফাইনালেও একই ধরনের ঘটনার সাক্ষী ছিল ক্রিকেট বিশ্ব। সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বাধীন পুরুষ ক্রিকেট দল পাকিস্তানকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরও মহসিন নকভির হাত থেকে ট্রফি নেয়নি।
কেন এই কঠোর পদক্ষেপ?
পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলার পর থেকেই ২২ গজেও পাকিস্তানের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট রেখেছে ভারত। নকভি একদিকে যেমন পিসিবি প্রধান, তেমনই তিনি পাকিস্তান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী। জাতীয় নিরাপত্তা ও পহেলগাঁও হামলার তীব্র প্রতিবাদ রূপেই পাক মন্ত্রীর হাত থেকে ট্রফি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত বজায় রেখেছে ‘উইমেন ইন ব্লু’।
ঘটনার পর দলের অবস্থান স্পষ্ট করে ভারতীয় মহিলা দলের প্রধান কোচ অমল মজুমদার জানান, দল সম্পূর্ণভাবে বিসিসিআই-এর নীতি মেনেই চলেছে। তিনি বলেন, “এশিয়া কাপ জিতে আমরা গর্বিত। স্টেডিয়ামের জায়ান্ট স্ক্রিনে ভারতকে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আমাদের মূল ফোকাস এখন আসন্ন এশিয়ান গেমসের দিকে।”