৩ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান! মেঘভাঙা বৃষ্টির ভয়াবহ ধ্বংসলীলা কাটিয়ে ফের পর্যটকদের জন্য খুলল লাচেন!

দীর্ঘ প্রায় তিন বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পর্যটক ও সাধারণ যান চলাচলের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হলো উত্তর সিকিমের অন্যতম জনপ্রিয় ও আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র লাচেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসের শুরুতে দক্ষিণ লোনাক হ্রদে প্রলয়ঙ্করী মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে তিস্তা নদীতে নেমেছিল ভয়াবহ হড়পা বান বা ফ্ল্যাশ ফ্লাড। সেই সর্বগ্রাসী প্লাবনে চুংথাং বাঁধ সহ উত্তর সিকিমের বিস্তীর্ণ অংশের রাস্তাঘাট, সেতু ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে ভেঙে গুঁড়িয়ে গিয়েছিল। নিরাপত্তার খাতিরে এবং পরিকাঠামোগত ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে দীর্ঘ তিন বছর ধরে লাচেন সাধারণ পর্যটকদের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছিল, যার ফলে চরম আর্থিক সঙ্কটের মুখে পড়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে হোটেল মালিক ও পর্যটন ব্যবসায়ীরা।
এই চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজে নেমে সেনাবাহিনী, গ্রিফ এবং সিকিম প্রশাসন একাধিকবার রাস্তা সচল করার চেষ্টা করে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হলেও ৫ এপ্রিল ফের ধসের কবলে পড়ে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেই গুরুত্বপূর্ণ ‘তারাম চু’ সড়ক। এরপর ফের অদম্য প্রচেষ্টায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চালিয়ে গত ২৯ অগস্ট সড়কটি চলাচলের উপযোগী করে তোলা হয়। তবে উত্তর সিকিমে লাগাতার ধসের জেরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে লাচেন যাওয়ার পারমিট দেওয়া স্থগিত রাখা হয়েছিল। অবশেষে পরিস্থিতির সামগ্রিক উন্নতি হওয়ায় ১১ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার থেকে পর্যটকদের জন্য লাচেন যাওয়ার পারমিট ইস্যু করা শুরু হয়েছে। সিকিম সরকার ও মঙ্গন জেলা প্রশাসনের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে সিকিমের পর্যটন মহলে খুশির হাওয়া বইছে।
কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (CII)-এর প্রতিনিধি সম্রাট সান্যাল এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “লাচেন দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় গাড়ি চালক, গাইড ও হোটেল ব্যবসায়ীদের পরিবারগুলি চরম আর্থিক কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল। আসন্ন উৎসবের মরশুমের ঠিক আগে লাচেন পুনরায় খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত সিকিমের পর্যটনে নতুন জীবনের সঞ্চার করেছে।” তবে পর্যটকদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গন জেলার জেলাশাসক অনন্ত জৈন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৫-এর অধীনে বিশেষ ট্রাফিক নিয়ম বলবৎ করেছেন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গ্যাংটক বা মঙ্গন থেকে লাচেনমুখী এবং লাচেন থেকে নিচের দিকে নামা সমস্ত হালকা গান্ধীকে বিকেল চারটের মধ্যে টুং চেকপোস্ট বাধ্যতামূলকভাবে অতিক্রম করতে হবে। রাতের পাহাড়ি রাস্তায় দুর্ঘটনা এড়াতেই এই সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর লাচেন ও গুরুদংমার হ্রদের সৌন্দর্য উপভোগ করতে মুখিয়ে থাকা ভ্রমণপ্রেমীদের এখন কড়া নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।