‘বন্দে মাতরম’ পুরো গাওয়া নিয়ে তুলকালাম! শরিক কংগ্রেসকে জেলের ভয় দেখিয়ে ছক্কা হাঁকালেন ওমর আবদুল্লা!

সরকারি অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’ গানের সমস্ত স্তবক গাওয়াকে কেন্দ্র করে জম্মু ও কাশ্মীরের রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। জোট শরিক কংগ্রেসের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে এবার অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও স্পষ্ট সুরে পাল্টা জবাব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। জাতীয় সঙ্গীত ও নতুন পাস হওয়া আইন মেনে চলা যে সমস্ত সাংবিধানিক পদের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক, তা মনে করিয়ে দিয়ে কংগ্রেসকে একহাত নিয়েছেন তিনি। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী মঞ্চে বন্দে মাতরমের পূর্ণাঙ্গ রূপ গাওয়া নিয়ে কংগ্রেস আপত্তি তোলায় ওমর সরাসরি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন—কংগ্রেস কি তবে এটাই চায় যে সাধারণ কাশ্মীরিরা জেলের অন্ধকারে বন্দি হোক?
চলতি বছরের জুলাই মাসে ভারতীয় সংসদে একটি বিশেষ বিল পাস হওয়ার মাধ্যমে ‘বন্দে মাতরম’ গানটিকে জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’-র সমতুল্য মর্যাদার আসনে ভূষিত করা হয়েছে। পাশাপাশি, এই গানের অবমাননাকে একটি গুরুতর শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে জম্মু ও কাশ্মীরের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের একটি জমকালো অনুষ্ঠানে দুই রাজ্যপাল, এক উপ-রাজ্যপাল এবং হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির উপস্থিতিতেই বন্দে মাতরমের পূর্ণ সংস্করণ গাওয়া হয়েছিল। আর এই ঘটনা ঘিরেই প্রকাশ্যে চলে আসে রাজনৈতিক কোন্দল।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন, “কংগ্রেসের যদি এই আইন বা নিয়ম নিয়ে এতই আপত্তি থাকত, তবে তাদের উচিত ছিল সংসদেই বিলটি আটকানো। কিন্তু বর্তমানে দেশে একটি পাকা আইন কার্যকর রয়েছে। যে সরকারি অনুষ্ঠানে এতজন সাংবিধানিক প্রধান উপস্থিত ছিলেন, সেখানে নিয়ম মেনেই গান গাওয়া হয়েছে।” ওমর আরও কটাক্ষ করে বলেন, “আইন অনুযায়ী দেশের যেখানেই এই নিয়ম প্রযোজ্য, সেখানেই গানটির সব স্তবক গাওয়া বাধ্যতামূলক। কংগ্রেস কি তবে চাইছে এই আইনি বাধ্যবাধকতার অজুহাতে কাশ্মীরবাসীকে জেলে পোরার ব্যবস্থা করা হোক? এটি কেবল জম্মু ও কাশ্মীরের জন্য নয়, গোটা দেশের জন্যই প্রযোজ্য নিয়ম। কংগ্রেস শাসিত রাজ্যগুলির সরকারি অনুষ্ঠানেও একই নিয়ম মানা বাধ্যতামূলক।”
তিলকে তাল পাকানোর তীব্র সমালোচনা করে ওমর আরও যোগ করেন, “কংগ্রেস যখন ভবিষ্যতে কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসবে, তখন তারা চাইলে সংসদে আইন বদল করে এই নিয়ম বাতিল করতেই পারে। ন্যাশনাল কনফারেন্স তাতে সামান্যতম আপত্তিও জানাবে না। কিন্তু যতক্ষণ দেশে নির্দিষ্ট আইন বলবৎ রয়েছে, ততক্ষণ তা মেনে চলা আমাদের নৈতিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব।”
উল্লেখ্য, ৯০ আসনের জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভায় ৬ জন বিধায়ক থাকা কংগ্রেস বাইরে থেকে ওমর আবদুল্লার সরকারকে সমর্থন জোগাচ্ছে। তা সত্ত্বেও এই ইস্যুতে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল এবং রাজ্য সভাপতি তারিক হামিদ কররা প্রকাশ্যে সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। ১৯৩৭ সালের কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির ঐতিহাসিক প্রস্তাবের কথা তুলে তারা দাবি করেছেন, গানটির পূর্ণাঙ্গ রূপ ভারতের বহুত্ববাদী চেতনার সঙ্গে সবসময় খাপ খায় না। তবে বসে নেই ন্যাশনাল কনফারেন্সও। কংগ্রেস শাসিত কর্নাটক এবং তেলেঙ্গনার স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানেও যে বন্দে মাতরমের সম্পূর্ণ রূপ গাওয়া হয়েছে, তার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁস করে কংগ্রেসকে চরম অস্বস্তিতে ফেলেছে এনসি। ফলে এই তরজার জেরে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের অন্দরের ফাটল আরও চওড়া হলো বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।