৬ ঘণ্টার জটিল অস্ত্রোপচার! হাঁটতে পারছিলেন না ‘বজরঙ্গি ভাইজান’ খ্যাত অভিনেতা, এখন কেমন আছেন?

বলিউড ইন্ড্রাস্টিতে দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে দাপিয়ে অভিনয় করা প্রবীণ অভিনেতা শরৎ সাক্সেনা বর্তমানে শারীরিক জটিলতার কারণে খবরের শিরোনামে রয়েছেন। ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’, ‘গুলাম’ এবং ‘বজরঙ্গি ভাইজান’-এর মতো একাধিক আইকনিক ব্লকবাস্টার ছবিতে স্মরণীয় অভিনয় করে যিনি দর্শকদের মন জয় করেছেন, সেই অভিনেতা সম্প্রতি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। চিকিৎসকদের কড়া পরামর্শ অনুযায়ী তাঁর মেরুদণ্ডে একটি জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। ৭৬ বছর বয়সি এই অভিনেতা নিজেই হাসপাতালের বিছানা থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি শেয়ার করে তাঁর এই বড় স্বাস্থ্য আপডেট ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন।
শরৎ সাক্সেনা তাঁর অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে হাসপাতালের একাধিক ছবি পোস্ট করেছেন। ছবিগুলো শেয়ার করে তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ও রসাত্মক ভঙ্গিতে ক্যাপশনে লিখেছেন, “৬ ঘণ্টার স্পাইন সার্জারি সম্পন্ন। একজন ভালো মানুষকে কেউ থামাতে পারে না।” তাঁর এই পোস্ট থেকেই স্পষ্ট যে, তাঁর এই সফল অস্ত্রোপচারটি দীর্ঘ ছয় ঘণ্টা ধরে চলেছিল। তবে বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অনেকটাই উন্নতি হয়েছে এবং তাঁকে হাসপাতাল থেকে সফলভাবে বাড়িতে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। অস্ত্রোপচারের আগের দিনগুলোতে তাঁর হাঁচলার মারাত্মক সমস্যা হচ্ছিল, যা ভক্তদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছিল।
ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা ছবিগুলির মধ্যে একটি ছবি তাঁর হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পথের। অত্যন্ত হাস্যোজ্জ্বল মুখে সেই ছবির ক্যাপশনে তিনি স্বস্তির সুর মিলিয়ে লিখেছেন, “আমাকে আর স্যুপ খেতে হবে না।” পাশাপাশি অপর একটি ছবিতে তাঁর দীর্ঘদিনের লাঠির ওপর নির্ভরতা ঘুচে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি লিখেছেন, “আর হাঁটার লাঠি নয়।” অর্থাৎ এখন থেকে তাঁকে আর হাঁটার জন্য কোনো লাঠির ওপর নির্ভর করতে হবে না। প্রিয় অভিনেতার এমন ইতিবাচক ও হাসিমুখের ছবি দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন অনুরাগীরা। কমেন্ট বক্সে উপচে পড়েছে ভক্তদের দ্রুত আরোগ্য কামনার বার্তা। এর আগে যখন তিনি তাঁর এমআরআই করানোর কিছু ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছিলেন, তখন থেকেই তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন ভক্তরা।
উল্লেখ্য, শরৎ সাক্সেনা বলিউডের এমন একজন জীবন্ত কিংবদন্তি, যিনি তাঁর বর্ণময় ক্যারিয়ারে আড়াইশোরও বেশি চলচ্চিত্রে দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেছেন। ৭৬ বছর বয়সেও তিনি নিজের শারীরিক ফিটনেসের প্রতি অত্যন্ত সচেতন। নিয়মিত জিম করা এবং শরীরচর্চার জন্য প্রতিদিন অন্তত দু’ঘণ্টা সময় ব্যয় করেন তিনি। তাঁর এই লড়াকু মানসিকতা এবং অটুট মনোবল প্রমাণ করে যে বয়স কেবলই একটা সংখ্যা। আপাতত চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে থেকে তিনি সম্পূর্ণ বিশ্রামে রয়েছেন এবং দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছেন তাঁর অগণিত ভক্তরা।