উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের বিরাট সাফল্য! পণ্য পরিবহণে এক ধাক্কায় কতটা বাড়ল আয়? জানলে চমকে যাবেন

পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে এক অনন্য এবং উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করল উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে। ২০২৬ সালের অগাস্ট মাসে এই রেলওয়ে মোট ০.৯৫৭ মিলিয়ন টন পণ্য পরিবহণ করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪.৫ শতাংশ বেশি। গত বছর এই মাসে পণ্য পরিবহণের পরিমাণ ছিল ০.৯১৬ মিলিয়ন টন। রেলওয়ের এই ধারাবাহিক ও ঊর্ধ্বমুখী সাফল্য পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক বিরাট মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
চলতি আর্থিক বছরের প্রথম পাঁচ মাস অর্থাৎ এপ্রিল থেকে অগাস্ট পর্যন্ত সময়ে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের মোট পণ্য পরিবহণের পরিমাণ পৌঁছেছে ৫.০৯ মিলিয়ন টনে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিসংখ্যান ছিল ৪.৭৮ মিলিয়ন টন। ফলে এই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সামগ্রিক পণ্য পরিবহণে ৬.৫ শতাংশের জোরালো বৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়েছে।
অগাস্ট মাসে পণ্য পরিবহণের এই অসাধারণ বৃদ্ধিতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পণ্য চালানের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। এর মধ্যে সবথেকে বেশি নজর কেড়েছে সিমেন্ট লোডিং। গত বছরের আগস্ট মাসের তুলনামূলক হিসাবে সিমেন্ট লোডিং এক লাফে ১০৬.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ০.১৩ মিলিয়ন টনে। পাশাপাশি ফল, সবজি এবং কাঠ জাতীয় বিভিন্ন পণ্যের লোডিং বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৯২.৩ শতাংশ।
এছাড়াও কয়লা লোডিং ৫৪.৫ শতাংশ, ডলোমাইট লোডিং ৪৬.৬ শতাংশ এবং খাদ্যশস্য লোডিংয়ে ৩৯.৬ শতাংশের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। পাশাপাশি কন্টেইনার ট্র্যাফিক ৬.৩ শতাংশ এবং সার লোডিং ৩.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
এপ্রিল থেকে অগাস্ট পর্যন্ত সামগ্রিক বিশ্লেষণেও পণ্য পরিবহণের গ্রাফ সম্পূর্ণ ইতিবাচক রয়েছে। এই পাঁচ মাসে সিমেন্ট লোডিং বিস্ময়করভাবে ১৬১.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন অন্যান্য পণ্যের লোডিং বেড়েছে ৪৪.৬ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ডলোমাইট লোডিং ৩৪.২ শতাংশ, কয়লা ৭.৫ শতাংশ এবং কন্টেইনার ট্র্যাফিক ৭.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, পণ্য লোডিংয়ের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি মূলত রেলের পরিচালনগত দক্ষতা বৃদ্ধির নিরলস প্রচেষ্টারই সঠিক প্রতিফলন। পাশাপাশি পণ্য পরিবহণকারী গ্রাহকদের সঙ্গে পারস্পরিক সমন্বয় আরও শক্তিশালী করা এবং অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সঠিক গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য রেল প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানাবিধ যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে আরও জানিয়েছে যে, ভবিষ্যতেও পণ্য পরিবহণের পরিধি আরও সুদূর প্রসারী করা হবে। গোটা উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এক নির্ভরযোগ্য, আধুনিক এবং সম্পূর্ণ গ্রাহক-কেন্দ্রিক পরিবহণ পরিষেবা সুনিশ্চিত করার ক্ষেত্রে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।