পুজোয় কি বন্ধ হবে বামেদের বই স্টল? মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন সুজন চক্রবর্তী!

দুর্গাপুজোর আনন্দমুখর সময়ে বামপন্থীদের বইয়ের স্টল দেওয়া নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে ফের এক প্রস্থ তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। শারদোৎসবের আবহে রাজনৈতিক দলগুলির সাংস্কৃতিক প্রকাশনা ও বই বিক্রি নিয়ে বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই তরজা চলছে, আর এবার সরাসরি বিধানসভার অন্দরে এই ইস্যুটিকে কেন্দ্র করে বিতর্ক চরমে উঠল। গত বৃহস্পতিবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী একটি বড় মন্তব্য করে জানান যে, পুজোর মরসুমে বইয়ের স্টলে যদি ‘শারদোৎসব’ কথাটি লেখা থাকে, তবে সেখানে কোনো স্টল করতে দেওয়া হবে না। তাঁর সাফ নির্দেশ, স্টলের নামকরণে বা পরিচয়ে স্পষ্টভাবে ‘দুর্গাপুজোই’ লিখতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশিকা সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গেছে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও বিরোধিতা করে আসরে নেমেছেন সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির বিশিষ্ট নেতা সুজন চক্রবর্তী। তাঁর বিস্ফোরক দাবি, মূল বিতর্কটি আসলে ‘শারদোৎসব’ শব্দটিকে নিয়ে নয়, বরং বই এবং স্বাধীন মুক্তচিন্তার ওপর আক্রমণ নামিয়ে আনা। বিধানসভার বাইরে দাঁড়িয়ে সুজন চক্রবর্তী চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে বামেদের বইয়ের স্টল আগের মতোই বসবে এবং তা কোনোভাবেই আটকানো সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “শারদোৎসবের বইস্টল হবেই। কেউ ঠেকাতে পারবে না। চ্যালেঞ্জ থাকল।”
পাশাপাশি, ‘শারদোৎসব’ শব্দটির ব্যবহার নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর আপত্তিকেও তীব্র কটাক্ষ করেছেন সিপিএম নেতা। সুজন বাবুর মতে, বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে ‘শারদোৎসব’ একটি অত্যন্ত সুপরিচিত এবং সমাদৃত শব্দ। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত নাটক ‘শারদোৎসব’ থেকে শুরু করে সর্বজনবিদিত বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের ‘আশ্বিনের শারদ প্রাতে’—বাংলার সুদীর্ঘ সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে এই শব্দের গভীর ঐতিহ্য রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, বাংলা ও বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসব মানেই শারদোৎসব। মুখ্যমন্ত্রীর এই ধরনের অবস্থানকে ‘অর্বাচীনের মতো কথা’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি।
বই পড়া এবং মুক্তচিন্তার প্রসারের ওপর সরকারি কড়াকড়ির তীব্র সমালোচনা করে আরও আক্রমণাত্মক সুর চড়ান সিপিএম নেতা। তাঁর সরাসরি অভিযোগ, বইকে ভয় পাওয়া এবং বই বিক্রির ওপর বাধা সৃষ্টি করা ফ্যাসিস্টদের পুরনো মানসিকতা। সুজন চক্রবর্তী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আপনার ভয় বইকে নিয়ে। আপনি শারদোৎসবকে ভয় পাচ্ছেন? উনি আসলে ভয় পাচ্ছেন বইকে, চিন্তাকে।” তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেছেন যে, বামেদের বইয়ের স্টল বসাতে যদি কোনো প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক বাধা আসেও, তবে সেই সমস্ত বাধা বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সাধারণ মানুষের হাতে ঠিক বই পৌঁছে দেওয়া হবে। কারণ এই বইগুলিই সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়াতে এবং মুক্তচিন্তার প্রসার ঘটাতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নেয়। আসন্ন পুজোকে কেন্দ্র করে এই বই বিতর্ক এখন রাজনৈতিক অঙ্গনকে উত্তপ্ত করে তুলেছে।