“ভারতের ৭.৮% GDP বৃদ্ধি …?”-IMF-এর এই বিস্ফোরক ঘোষণায় শোরগোল বিশ্বজুড়ে

দেশের জিডিপি (GDP) বৃদ্ধির হার নিয়ে রাজনৈতিক মহলে যখন নানা বিতর্ক ও প্রশ্ন উঠছে, ঠিক তখনই ভারতের নতুন পরিসংখ্যান ব্যবস্থার ভূয়সী প্রশংসা করল আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার বা আইএমএফ (IMF)। সংস্থার মতে, ভারতের জিডিপি হিসাবের ক্ষেত্রে নতুন ‘ইনডেক্স অফ ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোডাকশন’ (IIP) এবং ‘প্রোডিউসার প্রাইস ইনডেক্স’ (PPI) যুক্ত হওয়ায় ভবিষ্যতে দেশের অর্থনৈতিক হিসাব আরও অনেক বেশি নিখুঁত হবে।

কী জানাল আইএমএফ? আইএমএফ-এর কমিউনিকেশনস ডিপার্টমেন্টের ডিরেক্টর জুলি কোজ্যাক এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, সদ্য প্রকাশিত জিডিপির হিসাবে যে নতুন শিল্প উৎপাদন সূচক এবং পিপিআই সিরিজ ব্যবহার করা হয়েছে, তা ভারতের জিডিপির হিসাবকে আরও উন্নত করতে সাহায্য করবে। অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানের পরিকাঠামো আধুনিক করার ক্ষেত্রে ভারতের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছে আন্তর্জাতিক এই সংস্থা। পাশাপাশি, পরিসংখ্যানের মান আরও শক্তিশালী করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে উৎসাহ জোগাচ্ছে তারা।

প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ৭.৮% জিডিপি বৃদ্ধি চলতি অর্থবর্ষের এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে ভারতের বাস্তব জিডিপি বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৭.৮ শতাংশে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, উৎপাদন ও পরিষেবা খাতের শক্তিশালী পারফরম্যান্স, অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি এবং রপ্তানির হাত ধরেই এই সাফল্য এসেছে। জুলি কোজ্যাক স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধির হার আইএমএফ কর্মী ও অন্যান্য পর্যবেক্ষকদের সমস্ত পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গেছে। শক্তির বাজারের অস্থিরতার মধ্যেও ভারতীয় অর্থনীতির এই স্থিতিস্থাপকতা প্রমাণ করে যে, বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ইঞ্জিন হিসেবে ভারত এখনও নিজের জায়গা ধরে রেখেছে।

জিডিপি নিয়ে আসল বিতর্ক কোথায়? ৭.৮ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধির পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে আসার পরেই শুরু হয় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিতর্ক। প্রাক্তন অর্থসচিব এস সি গর্গ দাবি করেন, আগের বছরের জিডিপির হিসাব কমিয়ে দেখানোর ফলেই চলতি বছরের বৃদ্ধির হার এত বেশি দেখাচ্ছে। বিরোধী দলগুলিও এই যুক্তিকে হাতিয়ার করে সরকারের জিডিপি তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। যদিও মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভি অনন্ত নাগেশ্বরন এই দাবিকে ‘তথ্য বেছে বেছে ব্যবহার করা’ বা ‘চেরি-পিকিং’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে সব বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে আইএমএফের এই সার্টিফিকেট প্রমাণ করল যে, নতুন পরিসংখ্যান পরিকাঠামো ভারতের অর্থনৈতিক অবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও নির্ভুল করার পথে বড় ভূমিকা নিচ্ছে।