“তারেকের সফর নিয়ে ধোঁয়াশা…!”-শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দিতে দিল্লিকে কড়া বার্তা বাংলাদেশের

আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যোগ দেবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত নতুন কোনো তথ্য বা নিশ্চিত বার্তা নেই বলে জানিয়েছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে নিয়মিত সাংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল এই কথা জানান। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য বিমসটেকের চেয়ারপারসন হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানালেও তাঁর সফর নিয়ে জল্পনা অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে ২০২৪ সালের অগাস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। বর্তমানে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন এবং তাঁকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ঢাকা বারবার দাবি জানিয়ে আসছে। সম্প্রতি ঢাকায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও, বিদেশ মন্ত্রক সাফ জানিয়েছে যে এটি নিছকই একটি সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ ছিল। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে কথা হলেও তারেক রহমানের সফর বা হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো আপডেট দেয়নি নয়াদিল্লি।

হাসিনাকে ফেরানো নিয়ে কড়া অবস্থান ঢাকার

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের এই শীতলতার মধ্যেই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে ফের অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করেছে বাংলাদেশ সরকার। দেশটির তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ না করা পর্যন্ত দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। ভারতে বসে শেখ হাসিনার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ভার্চুয়াল সাক্ষাৎকার বা রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়াকে ‘অত্যंत অপ্রত্যাশিত’ বলে অভিহিত করে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

ডা. জাহেদ উর রহমান আরও হুংকার দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ সরকার শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করতে বদ্ধপরিকর। প্রয়োজনে তাঁকে ভারত থেকে ‘ধরে এনে’ দেশের আইনে শাস্তি দেওয়ার দাবি তুলেছে ঢাকা। শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের শর্তের সঙ্গেও যে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়টি জোরালোভাবে জুড়ে দেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশ সরকারের এই অনড় অবস্থানের ফলে আগামী দিনে দিল্লি ও ঢাকার কূটনৈতিক জটিলতা আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

সম্পত্তি ক্রোকের প্রক্রিয়া শুরু

রাজনৈতিক পালাবদলের জেরে দেশত্যাগী প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ আরও ত্বরান্বিত করেছে ঢাকা। জুলাই বিপ্লবের সময় সংঘটিত হিংসায় ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর আদালতের নির্দেশেই তাঁর সম্পত্তি ক্রোক করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই পদক্ষেপের জন্য সম্প্রতি বিশেষ আইনি সংশোধনও আনা হয়েছে। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে হাসিনার দেওয়া নিজস্ব প্রার্থীর হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর মোট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৪ কোটি ৩৬ লক্ষ বাংলাদেশি টাকা। এর মধ্যে শুধু ২০২২ সালেই তাঁর আয় ছিল ১ কোটি ৭ লক্ষ টাকা, যার একটি বড় অংশ আসত কৃষি খাত থেকে। এছাড়া তাঁর তিনটি গাড়ির মধ্যে দুটি বহুমূল্য গাড়ির দাম ৪৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা এবং প্রায় ১৩ লক্ষ টাকার সোনা ও মূল্যবান অলংকার রয়েছে। সব মিলিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক উভয় ফ্রন্টেই সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে উত্তাল এখন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি।