প্যান্ডেলের কাছে বিরিয়ানির দোকান কি বন্ধ থাকবে? মুখ খুললেন উজ্জ্বলদা থেকে আরসালানের ম্যানেজার!

দুর্গাপুজোর ঠিক প্রাক্কালে বাংলায় দানা বেঁধেছে এক নতুন আমিষ-নিরামিষ বিতর্ক। সম্প্রতি ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী ওরফে ‘বাগেশ্বর বাবা’র একটি মন্তব্যের জেরে এই বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তবে কি পুজোয় বাঙালি তার প্রিয় আমিষ খাবার থেকে বঞ্চিত হবে? যদিও রাজ্য সরকারের শীর্ষস্তর থেকে প্যান্ডেলের কাছে আমিষ খাবার বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞার দাবি স্পষ্টভাবে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তবুও ব্যবসায়ীদের মনে একটা অদৃশ্য আশঙ্কা থেকেই গেছে। বিশেষ করে যাঁদের পাকাপাকি দোকান পুজো মন্ডপের কাছাকাছি রয়েছে, তাঁরা উৎসবের মরশুমে কোনো গণ্ডগোল বা বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।

মধ্যমগ্রামের উজ্জ্বলদার বিরিয়ানি

মধ্যমগ্রামের রবীন্দ্রপল্লীর পুজো প্যান্ডেল থেকে মাত্র ১০০ মিটারের মধ্যে রয়েছে জনপ্রিয় ‘উজ্জ্বলদার বিরিয়ানি’র দোকান। এই পরিস্থিতি নিয়ে দোকানের কর্ণধার উজ্জ্বলদা সংবাদমাধ্যমকে জানান, তাঁরা কখনোই সরকারের বিরুদ্ধে নন এবং সবসময় প্রশাসনের পাশেই রয়েছেন। তাঁর মতে, যদি পুজো প্যান্ডেলের পাশে দোকান বন্ধ রাখার কোনো সরকারি নির্দেশিকা আসত, তবে সেটা আলাদা কথা হতো। যেহেতু এমন কিছু নেই, তাই তাঁদের এলাকায় অনেক দোকান থাকা সত্ত্বেও তাঁরা কোনো বড় সমস্যা দেখছেন না এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে বলেই তাঁর আশা।

লেকটাউনের সিমলা বিরিয়ানি

পূর্ব কলকাতার অত্যন্ত জনপ্রিয় পুজো শ্রীভূমির থেকে ৫০০-৬০০ মিটারের দূরত্বে অবস্থিত লেকটাউনের বিখ্যাত ‘সিমলা বিরিয়ানি’। এই দোকানের ম্যানেজার জানিয়েছেন, স্থানীয় কোনো ক্লাব বা পুজো কমিটির সঙ্গে তাঁদের ন্যূনতম বিরোধ তো নেইই, বরং সকলের সঙ্গেই অত্যন্ত সুসম্পর্ক বজায় রয়েছে। এলাকার মানুষের কাছেও তাঁদের খাবার যথেষ্ট সমাদৃত। যেহেতু সরকারের তরফ থেকে কোনো রকম নিষেধাজ্ঞা বা নির্দেশিকা জারি করা হয়নি, তাই এই বিতর্ককে তাঁরা সম্পূর্ণ অহেতুক বলেই মনে করছেন। তবুও সুরক্ষার খাতিরে মালিকপক্ষ আগে থেকেই পুজো কমিটি ও ক্লাবগুলোর সঙ্গে কথা বলে রেখেছে, যাতে উৎসবের কটা দিন কোনো বিপাকে পড়তে না হয়।

পার্কসার্কাসের আরসালান

শহরের অন্যতম বৃহৎ বিরিয়ানি হাব ‘আরসালান’-এর পার্কসার্কাসের মূল শাখাটির ম্যানেজারও একই সুরে কথা বলেছেন। তাঁর স্পষ্ট দাবি, আমিষ-নিরামিষ নিয়ে সম্পূর্ণ অহেতুক ও কৃত্রিম বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। সরকার যেহেতু এই বিষয়ে কোনো বিধিিনিষেধ আরোপ করেনি, তাই তাঁরা ব্যবসার ক্ষেত্রে কোনো রকম অন্ধকারের মেঘ দেখছেন না। কিছু মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে এই ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করলেও বাঙালি যে নিজের দীর্ঘদিনের খাদ্যাভাস কোনো বাইরের লোকের কথায় হুট করে বদলে ফেলবে না, সে বিষয়ে তাঁরা সম্পূর্ণ আস্থাশীল।