উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের বড় পদক্ষেপ! শিলিগুড়ি স্টেশন ও লোকো শেড ঘুরে কী নির্দেশ দিলেন জিসি শ্রীবাস্তব?

উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার শ্রী চেতন কুমার শ্রীবাস্তব সম্প্রতি শিলিগুড়ির গুরুত্বপূর্ণ ডিজেল লোকো শেড এবং ঐতিহাসিক শিলিগুড়ি জংশন স্টেশন সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। রেলযাত্রীদের সামগ্রিক ভ্রমণ অভিজ্ঞতা আরও উন্নত করতে, পরিচালনগত দক্ষতা বহুগুণ বাড়াতে এবং চলমান বিভিন্ন পরিকাঠামো উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতেই এই উচ্চপর্যায়ের পরিদর্শন করেন তিনি। এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে জেনারেল ম্যানেজারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের মুখ্য কার্যালয় এবং কাটিহার ডিভিশনের একাধিক বরিষ্ঠ ও অভিজ্ঞ রেল আধিকারিকরা।

শিলিগুড়ির ডিজেল লোকো শেডে পৌঁছে জেনারেল ম্যানেজার সেখানে উপস্থিত বিদ্যমান পরিকাঠামো, লোকোমোটিভ রক্ষণাবেক্ষণের পরিকাঠামো এবং বিভিন্ন চলমান উন্নয়নমূলক কাজের বর্তমান পরিস্থিতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখেন। রক্ষণাবেক্ষণ কাজের ক্ষেত্রে সুরক্ষার সর্বোচ্চ মান, অপারেশনাল নির্ভরযোগ্যতা এবং কর্মদক্ষতা বজায় রাখার ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন। পাশাপাশি, বর্তমান সুযোগ-সুবিধাগুলির যাতে কোনো অপচয় না হয়ে সর্বোচ্চ কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কঠোর নির্দেশ দেন তিনি।

এরপরে শিলিগুড়ি রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে শ্রী চেতন কুমার শ্রীবাস্তব সেখানে চলমান বিভিন্ন যাত্রী-সুবিধা সংক্রান্ত প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। স্টেশন চত্বরে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে রেলের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকও করেন তিনি। উল্লেখ্য, বর্তমানে শিলিগুড়িতে বেশ কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মেগা প্রজেক্টের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। যার মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের মর্যাদাপূর্ণ ‘অমৃত ভারত স্টেশন স্কিম’-এর আওতায় শিলিগুড়ি স্টেশনটির আধুনিক পদ্ধতিতে পুনর্বিকাশের কাজ অন্যতম। এই বিশাল প্রকল্পের অধীনে একটি একদম নতুন ফুট ওভার ব্রিজ নির্মাণ, প্ল্যাটফর্ম নম্বর দুই ও তিনে আধুনিক পিপি শেডের ব্যবস্থা করা এবং একটি অত্যাধুনিক নতুন স্টেশন ভবন নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে।

এছাড়াও, জেনারেল ম্যানেজার শিলিগুড়ি থেকে আলুয়াবাড়ী রোড এবং শিলিগুড়ি থেকে নিউ জলপাইগুড়ি সেকশনে চলমান ডাবলিং বা দ্বৈত লাইন পাতার কাজের অগ্রগতিও অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে পর্যালোচনা করেন। সম্পূর্ণ আধুনিক, নিরাপদ এবং পুরোপুরি যাত্রী-বান্ধব রেল পরিকাঠামো গড়ে তোলার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করে তিনি কাজের গুণমান, সুরক্ষা এবং যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যের ক্ষেত্রে কোনো আপস না করার নির্দেশ দেন। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই যাতে সমস্ত চলমান পরিকাঠামো প্রকল্পের কাজ সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন করা যায়, সে বিষয়েও তিনি জোর দিয়েছেন।

পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক বিশেষ উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকে, রেলওয়ের পরিকাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং সার্বিক পরিচালনগত কর্মদক্ষতা উন্নয়নে সমস্ত রেলওয়ে আধিকারিক ও মাঠপর্যায়ের কর্মীদের নিষ্ঠা ও প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন জেনারেল ম্যানেজার। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিটি প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে রেলের অভ্যন্তরীণ সমন্বিত প্রচেষ্টা বজায় রাখা, কাজের গুণমান ও নিরাপত্তার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড কঠোরভাবে মেনে চলা এবং উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের সমগ্র নেটওয়ার্ক জুড়ে একটি সুরক্ষিত, নির্ভরযোগ্য ও দক্ষ রেল পরিষেবা প্রদান নিশ্চিত করার ওপর নিরবচ্ছিন্ন মনোযোগ বজায় রাখার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।