“জ্যোতি বসুর ‘ঐতিহাসিক ভুল’ থেকে শিক্ষা!”-২০২৯-এর আগেই প্রধানমন্ত্রী পদ নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করল সিপিএম

আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে বিরোধী ইন্ডিয়া জোট জয়ী হলে কি দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবেন রাহুল গান্ধী? এই জল্পনা উস্কে দিলেন সিপিএমের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি। তাঁর স্পষ্ট মন্তব্য, ভোটের ফলের পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তবে স্বাভাবিক নিয়মেই বিরোধী দলনেতা হিসেবে এই পদের প্রথম দাবিদার কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।
সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিপিএমের শীর্ষনেতা জানান, বিরোধী দলগুলি বর্তমানে সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলাফল প্রকাশের পর সমস্ত শরিক দল একসঙ্গে বসে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে আলোচনা করবে। এই প্রসঙ্গে তিনি ১৯৯৬ সালের সংযুক্ত মোর্চা বা ইউনাইটেড ফ্রন্টের সরকারের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, সেই সময় সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটি তৎকালীন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুকে প্রধানমন্ত্রী করার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ফলে সেই অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দল এখনই অহেতুক জল্পনা বা তড়িঘড়ি কোনও শর্তে যেতে নারাজ।
সাম্প্রতিক সময়ে তামিলনাড়ুর জনপ্রিয় অভিনেতা তথা টিভিকে (TVK) প্রধান থলপতি বিজয়কে ঘিরেও জাতীয় রাজনীতিতে নানা সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। তাঁকে বিরোধীদের প্রধানমন্ত্রী মুখ হিসেবে তুলে ধরার গুঞ্জন প্রসঙ্গে এম এ বেবি জানান, দক্ষিণের রাজ্যগুলিতে নানারকম আঞ্চলিক সমীকরণ থাকতেই পারে, তবে সেই বিতর্কে এই মুহূর্তে প্রবেশ করতে চাইছে না বাম নেতৃত্ব।
বর্তমানে বাম শিবিরের প্রধান লক্ষ্য হল দেশের ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক শক্তিগুলিকে একজোট করে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন এনডিএ সরকারকে হটিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করা। ভোটের ময়দানে জয়ের পরেই জোটের শরিকরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী বেছে নেবে বলেই মত এম এ বেবির।