“২৫, ৩০, ৩৫ বা ৪০ বছর বয়স?”-অবসরে ২ কোটি টাকা পেতে কোন বয়সে কত হাজার টাকা জমাবেন?

অবসরের পর হাতে যদি অন্তত ২ কোটি টাকা থাকে, তবে জীবনের বাকি দিনগুলিতে আর্থিক নিয়ে আর সেভাবে বিশেষ ভাবতে হয় না। কিন্তু এত বড় অঙ্কের টাকা কি চাইলেই রাতারাতি তৈরি করা সম্ভব? উত্তর হলো, কিছুটা সময় হাতে রেখে এবং সঠিক উপায়ে এগোলে এই লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন তো নয়ই, বরং বেশ সহজ। বর্তমান সময়ে আর্থিক বৃদ্ধির জন্য মিউচুয়াল ফান্ডে এসআইপি বা সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান (SIP) অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি মাধ্যম। যত তাড়াতাড়ি এই বিনিয়োগ শুরু করা যায়, টাকা বৃদ্ধির জন্য ততো বেশি সময় হাতে পাওয়া যায়। দীর্ঘ সময় ধরে বিনিয়োগ চালিয়ে গেলে চক্রবৃদ্ধি হারের বা কম্পাউন্ডিংয়ের দুর্দান্ত সুবিধা পাওয়া যায়। ধরা যাক, এসআইপি থেকে গড়ে যদি বছরে প্রায় ১২ শতাংশ রিটার্ন পাওয়া সম্ভব হয়, তবে ৬০ বছর বয়সের মধ্যে কীভাবে মোটা অঙ্কের ফান্ড তৈরি হতে পারে, তার একটি সম্ভাব্য হিসাব দেখে নেওয়া যাক। তবে মনে রাখা ভালো, মিউচুয়াল ফান্ডের রিটার্ন সম্পূর্ণ বাজারের উপর নির্ভরশীল, তাই ১২ শতাংশ রিটার্ন নিশ্চিত নয়।
২৫ বছর বয়সে শুরু করলে আপনার বয়স যদি এখন ঠিক ২৫ বছর হয়, তবে অবসরের জন্য আপনার হাতে হাতে সময় থাকছে দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর। এই দীর্ঘ সময়টিকে যদি সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারেন, তবে ম্যাজিক দেখতে পাবেন। হিসাব বলছে, এই বয়সে যদি প্রতি মাসে মাত্র ৪,০০০ টাকা করে এসআইপি করা যায়, তবে ৬০ বছর বয়স ছুঁতে ছুঁতে প্রায় ২.২০ কোটি টাকার তহবিল তৈরি হয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে আপনার মোট বিনিয়োগ হবে মাত্র ১৬.৮ লক্ষ টাকার কাছাকাছি, আর বাকি বিশাল অঙ্কটাই আসবে সম্ভাব্য রিটার্ন থেকে। অর্থাৎ, যত কম বয়সে শুরু করবেন, পকেটে চাপ তত কম পড়বে।
৩০ বছর বয়সে শুরু করলে বয়স যদি ৩০ বছর হয়ে যায়, তবে বিনিয়োগের সময় কমে দাঁড়ায় ৩০ বছর। ফলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে মাসিক বিনিয়োগের পরিমাণ কিছুটা বাড়াতে হবে। এই বয়সে শুরু করলে প্রতি মাসে প্রায় ৬,৫০০ টাকা করে এসআইপি করতে হবে। তাহলেই ৬০ বছর বয়সে গিয়ে প্রায় ২ কোটি টাকা পর্যন্ত জমানো সম্ভব। এই ক্ষেত্রে আপনার মোট বিনিয়োগের পরিমাণ হবে প্রায় ২৩.৪ লক্ষ টাকা এবং সম্ভাব্য রিটার্নের অংশ হবে প্রায় ১.৭৭ কোটি টাকা।
৩৫ বছর বয়সে শুরু করলে আপনার বয়স যদি ৩৫ বছর পেরিয়ে গিয়ে থাকে, তবে অবসরের জন্য হাতে থাকে আর মাত্র ২৫ বছর। তাই একই ২ কোটি টাকার লক্ষ্যে পৌঁছতে মাসে বিনিয়োগের পরিমাণ আরও অনেকটা বাড়িয়ে দিতে হবে। এই হিসাব অনুযায়ী, ৩৫ বছর বয়স থেকে প্রতি মাসে প্রায় ১১,৫০০ টাকা করে এসআইপি করলে ৬০ বছর বয়সে প্রায় ১.৯৬ কোটি টাকার কাছাকাছি ফান্ড তৈরি করা সম্ভব। অর্থাৎ, দুই কোটির অত্যন্ত কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া যায়।
৪০ বছর বয়সে শুরু করলে ৪০ বছর বয়সে যদি কেউ এসআইপি শুরু করার কথা ভাবেন, তবে তাঁর হাতে সময় থাকে মাত্র ২০ বছর। ফলে মাসিক বিনিয়োগের অঙ্ক একলাফে অনেকটাই বাড়িয়ে দিতে হয়। এই হিসাব অনুযায়ী, তখন প্রতি মাসে প্রায় ২২,০০০ টাকা করে এসআইপি করতে হবে, তবেই ৬০ বছর বয়সে প্রায় ২.০২ কোটি টাকা পাওয়া যেতে পারে। এই ক্ষেত্রে আপনার নিজের মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৫২.৮ লক্ষ টাকা এবং সম্ভাব্য রিটার্নের পরিমাণ হতে পারে প্রায় ১.৫০ কোটি টাকা।
বয়স যত কম, জমানোর চাপ তত কম পুরো হিসাবের সবথেকে বড় শিক্ষাটি হলো, অবসরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের জন্য যত দ্রুত সম্ভব বিনিয়োগ শুরু করা উচিত। কারণ বয়স বাড়লে মাসিক জমানোর চাপও হু হু করে বাড়তে থাকে। ২৫ বছর বয়সে যেখানে মাত্র ৪,০০০ টাকা দিয়ে এই বিশাল তহবিল গড়া সম্ভব, সেখানে ৪০ বছর বয়সে একই লক্ষ্যের জন্য প্রতি মাসে ২২,০০০ টাকা করে বিনিয়োগ করতে হয়। তবে বিনিয়োগের আগে মাথায় রাখা দরকার, মিউচুয়াল ফান্ডের বাজার সবসময় ঝুঁকির অধীন। তাই নিজের বর্তমান আয়, ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা এবং ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে তবেই সঠিক পরিমাণে এসআইপি বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। সেই সঙ্গে মুদ্রাস্ফীতির জেরে আগামী দিনে টাকার ক্রয়ক্ষমতা কতটা কমতে পারে, সেই বিষয়টিও হিসাবের মধ্যে রাখা অত্যন্ত জরুরি।