“স্কুল পড়ুয়াদের জন্য আসছে ‘আপার আইডি’!”-রাজ্যে ‘এক দেশ, এক পরিচয়পত্র’ চালু করতেই নির্দেশিকা প্রশাসনের

রাজ্যের স্কুল পড়ুয়াদের জন্য এবার চালু হতে চলেছে বহুচর্চিত ‘এক দেশ, এক পরিচয়পত্র’ (ওয়ান নেশন ওয়ান স্টুডেন্ট আইডি) বা ‘আপার আইডি’ (APAAR ID)। এই কার্ড তৈরি এবং পড়ুয়াদের নথিভুক্তকরণের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য জেলা শিক্ষা আধিকারিকদের (ডিইও) বিশেষ নির্দেশিকা পাঠিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সমগ্র শিক্ষা মিশন। রাজ্যজুড়ে এই কর্মসূচি সফলভাবে কার্যকর করতে জেলা স্তরে বিশেষ কর্মশালা আয়োজনেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে এই প্রক্রিয়া নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকদের লিখিত অনুমতি বা ‘পেরেন্টাল কনসেন্ট ফর্ম’ ছাড়া কোনোভাবেই এই পরিচয়পত্র তৈরি করা যাবে না। সেই কারণে জেলা শিক্ষা আধিকারিকদের প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত ফর্ম ছাপিয়ে প্রতিটি স্কুল-স্কুলে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার রূপরেখা

সম্প্রতি এই সংক্রান্ত বিষয়ের উপর একটি দু’দিনের বিশেষ কর্মশালা আয়োজিত হয়। সেখানে রাজ্যের প্রতিটি জেলা থেকে একজন করে নোডাল শিক্ষক এবং একজন করে এমআইএস কো-অর্ডিনেটরকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এবার তাঁরাই নিজ নিজ জেলায় পুরো প্রক্রিয়াটি তত্ত্বাবধান ও বাস্তবায়নের মূল দায়িত্বে থাকবেন। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের চূড়ান্ত এসওপি (Standard Operating Procedure) অনুমোদন পাওয়ার পরই তা দ্রুত প্রতিটি জেলায় পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

কবে থেকে শুরু হচ্ছে নথিভুক্তকরণ?

প্রশাসন সূত্রে খবর, প্রতিটি জেলার অন্তত দুটি স্কুলে এবং দুটি শ্রেণির পড়ুয়া ও তাদের অভিভাবকদের (কমপক্ষে ৬০ জন বা তার বেশি) নিয়ে বিশেষ এনরোলমেন্ট ক্যাম্প করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল, সোমবার থেকেই সার্কেল ভিত্তিক এই ক্যাম্পের আয়োজন করতে বলা হয়েছে। প্রতিটি সার্কেল থেকে দুটি করে নির্বাচিত স্কুলের নোডাল শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে, নির্দিষ্ট দিনে প্রতিটি স্কুল থেকে যেন অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থীর নাম নথিভুক্ত করা হয়। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যের সমস্ত স্কুলেই এই প্রক্রিয়া যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুরো কাজের প্রতিদিনের অগ্রগতির ওপর নজর রাখতে জেলা শিক্ষা আধিকারিকরা অনলাইন রিপোর্টের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করবেন। প্রথমে প্রতিটি স্কুল নিজস্ব স্তরে তালিকা তৈরি করবে, যা পরবর্তীতে সার্কেল স্তরে জমা হবে। আর সেখান থেকেই সমস্ত তথ্য পৌঁছে যাবে জেলা শিক্ষা দপ্তরের কাছে।