মোদির প্রশংসায় পঞ্চমুখ বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী! বিশ্বমঞ্চে পেলেন ‘জ্ঞানী ও অনুপ্রেরণাদায়ী নেতার’ তকমা

আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও একবার বিশ্বনেতার আসনে সম্মানিত হলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডে ওয়েভার নরেন্দ্র মোদিকে বিশ্বের অন্যতম ‘অনুপ্রেরণাদায়ী’ ও ‘জ্ঞানী’ নেতা বলে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। মুম্বইয়ে আয়োজিত ভারত-বেলজিয়াম উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি কেবল ভারতের নয়, গোটা বিশ্বের কাছেই এক আলোর দিশারী। তাঁর এই বিশেষ মন্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চার সৃষ্টি করেছে। বাণিজ্য ও কূটনীতির অত্যন্ত জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার মাঝে বেলজিয়ামের শীর্ষ নেতার মুখে মোদির এই প্রশংসাবাণী দুই দেশের পারস্পরিক কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন উষ্ণতার বার্তা নিয়ে এসেছে।
দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের মঞ্চ থেকে বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্কের ওপর বিশেষ জোর দেন। বিশেষ করে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে তিনি বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর স্পষ্ট অভিমত, বর্তমান বিশ্বে যখন বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা, সংরক্ষণবাদ এবং বিভিন্ন ধরনের শুল্ক-প্রতিবন্ধকতার প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে, তখন ভারত ও ইউরোপ পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা এবং মুক্ত বাণিজ্যের পথ প্রশস্ত করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ডে ওয়েভারের মতে, এই বাণিজ্য চুক্তি কেবল একটি সাধারণ অর্থনৈতিক সমঝোতা মাত্র নয়, এটি দুই পক্ষের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার এক অনন্য প্রকাশ। এই চুক্তি আগামী দিনে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের যেকোনো অপ্রত্যাশিত ধাক্কা সামলাতেও কার্যকরী ভূমিকা নেবে।
এদিনের আলোচনায় বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের অর্থনীতিকে পরস্পরের পরিপূরক বলে উল্লেখ করেন। বিশেষ করে বেলজিয়ামের আধুনিক বন্দর ব্যবস্থা, লজিস্টিকস নেটওয়ার্ক, রাসায়নিক শিল্প এবং শক্তি ক্ষেত্রে ভারতীয় বাজারের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার বিপুল সম্ভাবনার কথা তিনি তুলে ধরেন। শুধু জাতীয় স্তরেই নয়, মহারাষ্ট্রের মতো অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের সঙ্গেও বেলজিয়ামের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গভীর করার বার্তা দিয়েছেন তিনি। আগামী দিনে বেলজিয়ামের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতি ও প্রতিনিধিদের নিয়ে ভারতে আরও বড় পরিসরে বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথাও প্রকাশ করেন তিনি।
অন্যদিকে, এই আলোচনাচক্রে কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলও ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে উভয় পক্ষের জন্যই এক বিরাট জয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। দীর্ঘ আড়াই দশকের দীর্ঘসূত্রিতা কাটিয়ে সম্পন্ন হওয়া এই চুক্তি দেশের কৃষক সমাজ, উদীয়মান স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম এবং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য এক বিশাল সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন তিনি। বিশ্ব বাণিজ্যের বর্তমান টালমাটাল পরিস্থিতিতে এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তি যে নতুন অর্থনীতির ভিত গড়বে, সে বিষয়ে একমত সমস্ত মহল।