পৃথিবীর উষ্ণতার সব রেকর্ড চূর্ণ! ২০২৬-ই কি হতে চলেছে ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণতম বছর?

পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি নিয়ে ফের এক চরম সতর্কবার্তা সামনে এসেছে। জলবায়ু বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্ট মাসটি বিশ্বজুড়ে এখনও পর্যন্ত নথিভুক্ত সবচেয়ে উষ্ণ আগস্ট হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। শুধু বিশ্বজুড়েই নয়, ভারতের আবহাওয়াতেও এই একই উদ্বেগজনক ছবি ধরা পড়েছে। পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে, তাপমাত্রার এই লাগাতার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আগামী দিনে মানবসভ্যতার জন্য এক বিরাট বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বছরের এখনও বেশ কিছু মাস বাকি থাকলেও জলবায়ু গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ক্লাইমেট ব্রিংক’-এর হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালটি ইতিহাসের উষ্ণতম বছর হিসেবে পরিগণিত হওয়ার প্রায় ৭৫ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে। চলতি বছরের গড় তাপমাত্রা প্রায় ১.৬২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকতে পারে। এর আগে ২০২৪ সালের বার্ষিক গড় তাপমাত্রা প্রাক্-শিল্পযুগের তুলনায় প্রায় ১.৫৫ থেকে ১.৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রেকর্ড করা হয়েছিল, যা এতদিন সর্বোচ্চ ছিল। কিন্তু চলতি বছরের গতিপ্রকৃতি সেই সর্বকালীন রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (IMD) জানিয়েছে, দেশে ১৯০১ সাল থেকে তাপমাত্রা রেকর্ড করার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট মাসটি সবচেয়ে উষ্ণতম হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। শুধু দিনের বেলা নয়, রাতের অস্বস্তিকর গরমও চরম উদ্বেগ বাড়িয়েছে। গত আগস্ট মাসে ভারতের গড় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৪.৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ০.৬৮ ডিগ্রি বেশি। গত ১২৫ বছরের আবহাওয়ার ইতিহাসে এই ঘটনা সম্পূর্ণ নজিরবিহীন।
বিশ্বের প্রধান মেট্রো শহরগুলির মধ্যে কলকাতার উষ্ণতা বৃদ্ধির হার বিশেষভাবে চিন্তায় ফেলেছে। গত বছর ভারতীয় শহরগুলির মধ্যে কলকাতাতেই তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার ছিল সবচেয়ে বেশি, যেখানে প্রাক্-শিল্পযুগের তুলনায় উষ্ণতা বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কলকাতার পরেই রয়েছে বেঙ্গালুরু, যেখানে বৃদ্ধির হার প্রায় ১.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে বিশ্ব উষ্ণায়নকে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হলেও, বর্তমান পরিস্থিতি সেই নিরাপদ সীমাকে দ্রুত অতিক্রম করে চলেছে। ফলে উপকূলবর্তী ও পাহাড়ি অঞ্চলগুলিতে আগামী দিনে বিপর্যয়ের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা।