৩ মাস আগেই বিয়ে, কানপুরে এলপিজি ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু দুই বন্ধুর!

শনিবার উত্তরপ্রদেশের কানপুর এবং কেরলের থ্রিশূর—দুই ভিন্ন রাজ্যে পরপর ঘটে যাওয়া ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ১০ জনের প্রাণহানির মর্মান্তিক খবর সামনে এসেছে। এর মধ্যে কানপুরের কল্যাণপুরে একটি এলপিজি সিলিন্ডারবাহী ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, কেরলে একটি লরির সঙ্গে সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন আটজন ছাত্র। এই জোড়া দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে নিহতদের পরিবারগুলিতে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কানপুরের কল্যাণপুর এলাকার এই দুর্ঘটনায় মৃতদের নাম সচিন বাল্মিকী (২৫) এবং তাঁর বন্ধু সূরয (৩৫)। দুজনেই মাসওয়ানপুর-রাওয়ারপুরের বাসিন্দা ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, শুক্রবার রাত আটটার দিকে ওই দুই বন্ধু মোটরবাইকে চেপে পানকির দিকে যাচ্ছিলেন। সেই সময় এলপিজি সিলিন্ডার বোঝাই একটি দ্রুতগামী ট্রাক তাঁদের বাইকটিকে ওভারটেক করতে গিয়ে সজোরে ধাক্কা মারে। ধাক্কার অভিঘাতে দুই আরোহীই রাস্তায় ছিটকে পড়েন এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকের চাকার তলায় পিষ্ট হন।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। কল্যাণপুরের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি) দিলীপ কুমার সিং জানিয়েছেন, ঘটনার পরই ঘাতক ট্রাকের চালক পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও স্থানীয়দের সহায়তায় পানকি খালের কাছ থেকে তাঁকে আটক করা হয়। পাশাপাশি ট্রাকটিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত সচিন পরিবারের সবার ছোট ছিলেন এবং একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করতেন। মাত্র তিন মাস আগেই তাঁর বিয়ে হয়েছিল। শুক্রবার সন্ধ্যায় বন্ধুর সঙ্গে পানকি যাওয়ার কথা বলে তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। এই মর্মান্তিক মৃত্যুর পর পরিবারের পক্ষ থেকে কল্যাণপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এসএইচও কেশব কুমার তিওয়ারি জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে ঘটনার সামগ্রিক কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, অপর একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার খবর এসেছে কেরলের থ্রিশূর জেলা থেকে। সেখানে একটি লরির সঙ্গে গাড়ির সংঘর্ষে অন্তত আটজন ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার রাত ১১টা নাগাদ কাইপামঙ্গলমের পানামবিক্কুনুর হাইওয়েতে রাস্তার পাশে একটি লরি পার্ক করা ছিল। সেই অবস্থাতেই তামিলনাড়ুর ওই আট ছাত্রকে বহনকারী গাড়িটি সেটিতে সজোরে ধাক্কা মারে।
দুর্ঘটনার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে ঘটনাস্থলেই আটজনের মৃত্যু হয়। স্থানীয় বাসিন্দা, দমকলকর্মী ও পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধারকাজ চালিয়ে গাড়িটি থেকে মৃতদেহগুলি বের করে। ময়নাতদন্তের জন্য সেগুলি থ্রিশূর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দেশের দুই প্রান্তে ঘটে যাওয়া এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাগুলি ফের একবার বেপরোয়া ড্রাইভিং ও ট্রাফিক নিরাপত্তার প্রশ্নচিহ্ন সামনে নিয়ে এল।