রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের ধাক্কা! শ্রীভূমি থেকে সুরুচি সংঘ—কারা পেলেন দুর্গাপুজোর মেগা দায়িত্ব?

এবছর রাজ্যে ক্ষমতার ঐতিহাসিক পালাবদলের পর এটাই হতে চলেছে প্রথম দুর্গাপুজো। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের অবসান ঘটিয়ে গত এপ্রিলের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে নতুন সরকার গঠন করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের এই প্রত্যক্ষ প্রভাব ইতিমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী এবং হাইপ্রোফাইল দুর্গাপুজো কমিটিগুলিতেও। শাসকদল বদলানোর সুবাদে প্রথা ভেঙে একাধিক হেভিওয়েট পুজো কমিটির মাথায় এসেছে বড় ধরনের নেতৃত্ব বদল। আগামী ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত হতে চলা এই শারদোৎসবকে কেন্দ্র করে এখন থেকেই শুরু হয়ে গেছে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উত্তাপ।
সবচেয়ে নজরকাড়া পরিবর্তন এসেছে কলকাতার অন্যতম প্রধান আকর্ষক শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব এবং সুরুচি সংঘের মতো বড় পুজো কমিটিগুলিতে। এতদিন ধরে এই পুজো দুটির প্রধান মুখ ও পৃষ্ঠপোষক হিসেবে দায়িত্ব সামলেছিলেন তৎকালীন তৃণমূল সরকারের দুই হেভিওয়েট মন্ত্রী সুজিত বসু ও অরূপ বিশ্বাস। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে তাঁদের সেই সুদিন আর নেই। নতুন সরকারের পালাবদলের পর সুরুচি সংঘের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বভার নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক সৌরভ সিকদার। অন্যদিকে, শ্রীভূমির পুজো পরিচালনার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত হয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখার্জি।
শুধু এই দুই পুজোই নয়, দক্ষিণ কলকাতার অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী পুজোতেও এসেছে বড়সড় বদল। পাটুলির বিখ্যাত কেন্দুয়া শান্তি সংঘে অতীতে যাঁদের আধিপত্য ছিল, সেই গ্রেফতার হওয়া প্রাক্তন টিএমসি কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তর পরিবর্তে এবার প্রধান পৃষ্ঠপোষকের আসনে আসীন হয়েছেন বিজেপি বিধায়ক সর্ব্বরী মুখার্জি। একইভাবে বারানগরের পুজোতেও প্রাক্তন তৃণমূল নেতার জায়গা নিয়েছেন পরিচিত মুখ তথা বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ। তবে এর মাঝেও ব্যতিক্রমী অবস্থান নিয়েছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি সমিক ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনো পুজো কমিটির প্রধান হবেন না, কারণ দুর্গাপুজো কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের মঞ্চ হতে পারে না; এটি সম্পূর্ণভাবে আপামর জনসাধারণের নিজস্ব উৎসব।
এদিকে অন্য একটি পৃথক পথে হেঁটেছে রাজডাঙ্গা নবোদয় সংঘ। বিচারাধীন প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষের সঙ্গে অতীতে যুক্ত থাকা এই ক্লাবটি এবার জনসমাগম এড়িয়ে শুধুমাত্র নিজেদের ক্লাব সদস্যদের মধ্যেই পুজো সীমিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বছরের জন্য তাদের উৎসবের মূল থিম রাখা হয়েছে ‘শোধন’।
রাজনৈতিক সমীকরণ যতই বদলে যাক না কেন, উদ্যোক্তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে উৎসবের জাঁকজমক ও ঐতিহ্যে কোনো ভাটা পড়বে না। উদাহরণস্বরূপ, সন্তোষপুর লেক পল্লীর মতো শীর্ষস্থানীয় পুজো কমিটিগুলি ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে যে তারা প্রায় এক কোটি টাকার বিশাল বাজেটে আগের মতোই জাঁকজমকপূর্ণভাবে পুজো উদযাপন করবে। রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে কলকাতার এবারের দুর্গাপুজো যে এক সম্পূর্ণ নতুন মাত্রা পেতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।