পাক প্রধানমন্ত্রীর মুখের ওপর মোদীর হুঙ্কার! এসসিও মঞ্চে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে চরম বার্তা কার দিকে?

কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে অনুষ্ঠিত ২৬তম ‘সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন’ (SCO) বা এসসিও শীর্ষ সম্মেলনের গোলটেবিল বৈঠকে সন্ত্রাসবাদের পরিকাঠামো সম্পূর্ণ রূপে ধ্বংস করার জোরালো আহ্বান জানিয়ে ফের একবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে অত্যন্ত কড়া বার্তা দিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মঙ্গলবার বিশ্বনেতাদের এই মহাভিজ্ঞতায় পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের উপস্থিতিকেই পাখির চোখ করে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক সুরে মোদী সাফ জানিয়ে দেন যে, সন্ত্রাসবাদের মতো গুরুতর এবং সংবেদনশীল বিষয়ে কোনও রকম ‘দ্বিচারিতা’ বা ডবল স্ট্যান্ডার্ড বিশ্বমঞ্চে আর বরদাস্ত করা হবে না। নাম না করে পাকিস্তান এবং তার সমস্ত মদতদাতাদের উদ্দেশে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বুঝিয়ে দেন যে সন্ত্রাসবাদকে কখনই কোনো দেশের গোপন কৌশলগত হাতিয়ার বা সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া যায় না।

পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সহ অন্যান্য সংস্থার শীর্ষ রাষ্ট্রপ্রধানদের সামনেই এই চড়া সুর চড়ান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি জোরালো কণ্ঠে বলেন, “আমাদের সকলকে আজ এক স্বরে কথা বলতে হবে— সন্ত্রাসবাদের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে জোড়া নীতি বা দ্বিচারিতার কোনো স্থান থাকতে পারে না।” যে সমস্ত রাষ্ট্র সন্ত্রাসবাদকে নিজেদের পররাষ্ট্র নীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে এবং প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয় ও অর্থ সাহায্য জোগায়, তাদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে মোদী যোগ করেন যে এই মানসিকতা অবিলম্বে বদলাতে হবে। বার্ষিক এই আন্তর্জাতিক শীর্ষ সম্মেলনের ঐতিহ্য মেনে বৈঠকের আনুষ্ঠানিক শুরুর আগে সমস্ত রাষ্ট্রপ্রধানরা অফিসিয়াল ফটোসেশনের জন্য একসঙ্গে জড়ো হন। সেই ছবি তোলার সোনালী মুহূর্তেই চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে উষ্ণ কুশল বিনিময় করতে দেখা যায় ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে।

দুই দিনব্যাপী এই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সম্মেলনের ফাঁকে ফাঁকে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে ব্যস্ত ছিলেন ভারতীয় প্রতিনিধিরা। সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে পৃথক ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন নরেন্দ্র মোদী। তবে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের খবর অনুযায়ী, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে এই সফরে আলাদা করে কোনো দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসার সম্ভাবনা নেই। প্রসঙ্গত, ২৬তম এসসিও লিডারশিপ সামিটে এই সংস্থার মোট ১০টি সদস্য রাষ্ট্র, ১৫টি সহযোগী অংশীদার দেশ এবং ২টি পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র একত্রিত হয়ে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং সন্ত্রাসদমন সহ একাধিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে একযোগে আলোচনায় অংশ নিয়েছে। বিশকেকের এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকে মোদীর এই সরাসরি ও কড়া আক্রমণ বিশ্ব রাজনীতিতে এক গভীর ও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে চলেছে বলেই মনে করছেন ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।