মাত্র ১৫ মিনিটে ৪০০০ শতাংশ লাফ! বিএসই-র নতুন নিয়মে নিমেষেই কোটিপতি হওয়ার ফাঁদ নাকি ধ্বংসের খেলা?

বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের (বিএসই) সদ্য চালু হওয়া নতুন ক্লোজিং অকশন বা সমাপনী নিলাম ব্যবস্থা ভারতীয় শেয়ার বাজারে এক নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর ঘটনার জন্ম দিয়েছে। এই নতুন নিয়মের মারপ্যাঁচে মাত্র ১৫ মিনিটের সংক্ষিপ্ত ব্যবধানে একটি ব্যাঙ্কক্সেক্স (Bankex) পুট অপশনের দাম অবিশ্বাস্য গতিতে লাফিয়ে ওঠে। চোখের পলকে যার দাম ছিল মাত্র ১.৭০ টাকা, তা ঝড়ের বেগে বেড়ে গিয়ে সোজা পৌঁছে যায় ৬৮.৫৫ টাকায়। প্রায় ৪,০০০ শতাংশের এই অভাবনীয় ও অবিশ্বাস্য উল্লম্ফনে শেয়ার বাজারে হুলুস্থুল পড়ে যায়। কিন্তু এই রুদ্ধশ্বাস উত্থানের আনন্দ স্থায়ী হয়নি বেশিক্ষণ, কারণ ঠিক তার পরেই আকস্মিক ধস নেমে সেই অপশনের দাম সোজা শূন্যে এসে ঠেকে। এক লহমায় সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন বহু খুচরো বিনিয়োগকারী।
শেয়ার বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, বিএসই-র এই নতুন ক্লোজিং অকশন সিস্টেমের কাঠামোগত ত্রুটি এবং কম তারল্যযুক্ত (Low Liquidity) ডেরিভেটিভ কন্ট্রাক্টের সুযোগ নিয়ে এই কারসাজি চালানো হয়েছে। দিনের শেষ ১৫ মিনিটে যখন বাজারের বড় খেলোয়াড় বা অপরেটররা একযোগে পজিশন স্কোয়ার অফ করতে শুরু করেন, তখন এই ধরনের কৃত্রিম ও অস্বাভাবিক দামের ওঠানামা দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে অসচেতন বিনিয়োগকারীরা এই ধরনের ফাঁদে পা দিয়ে বড়সড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবির কাছে এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ সিস্টেমের স্বচ্ছতা নিয়ে ইতোমধ্যে জোরালো প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, সঠিক জ্ঞান ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অভাব থাকলে এই ধরনের মেকানিজম সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য মারাত্মক আর্থিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।