রাজনীতির মঞ্চ ছেড়ে এবার নাটকের মঞ্চে বাজপেয়ীর ভূমিকায় সুকান্ত মজুমদার? জোর জল্পনা রাজ্য রাজনীতিতে!

রাজনীতির ব্যস্ত ময়দান থেকে কি এবার সোজা রূপোলি পর্দা কিংবা থিয়েটারের মঞ্চে অবতীর্ণ হতে চলেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী? বঙ্গ রাজনীতিতে এখন সবথেকে বড় চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে এই একটিই প্রশ্ন। খুব শীঘ্রই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বর্ণময় বর্ণাঢ্য জীবন এবং রাজনৈতিক সংগ্রাম নিয়ে একটি নতুন নাটকের মঞ্চায়ন হতে চলেছে। রঙ্গ অপেরা নাট্যদলের এই মেগা প্রোডাকশনের নাটকের নাম দেওয়া হয়েছে ‘কেশরী হত্যা?’। বিশিষ্ট নাট্যকার সঞ্জয় আচার্যের কলমে এবং দেবাশিস বিশ্বাসের নিপুণ ভাবনা ও নির্দেশনায় তৈরি হচ্ছে এই নাটকটি। আর সেই নাটকেই দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা ভারতরত্ন অটলবিহারী বাজপেয়ীর ঐতিহাসিক চরিত্রে অভিনয় করার জন্য সরাসরি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বালুরঘাটের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের কাছে।
সংবাদমাধ্যমের সামনে এই জল্পনা সম্পূর্ণভাবে উড়িয়ে না দিয়ে বরং খোদ সুকান্ত মজুমদার নিজেই স্বীকার করেছেন যে তাঁর কাছে অটলবিহারী বাজপেয়ির ভূমিকায় অভিনয়ের প্রস্তাব এসেছে এবং তিনি পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে দেখছেন। রাজনীতিতে পা রাখার অনেক আগে, ছাত্রজীবনে বালুরঘাটের বিভিন্ন নাট্যমঞ্চে অভিনয়ের সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। পরবর্তীতে অধ্যাপনার জীবন এবং কড়া দলীয় রাজনীতির ব্যস্ততায় মঞ্চ থেকে দূরে সরে গেলেও, শৈশব ও কৈশোরের সেই অভিনয় প্রীতি যে আজও তাঁর মনে দোলা দেয়, তা তাঁর কথাতেই স্পষ্ট। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনের বহু সংবেদনশীল অধ্যায়ের সঙ্গে যুবক অটলবিহারী বাজপেয়ীর নিবিড় সম্পর্ক জড়িয়ে রয়েছে। আর সেই ঐতিহাসিক চরিত্র ফুটিয়ে তোলার জন্যই নির্মাতারা সুকান্তর ওপর ভরসা রেখেছেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, একদিকে কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের বিশাল দায়িত্ব, অন্যদিকে রাজ্য বিজেপির অভ্যন্তরীণ ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং আসন্ন কলকাতা পৌরনিগমের নির্বাচন পরিচালনার গুরুদায়িত্ব—সব মিলিয়ে সুকান্ত মজুমদারের সময়সূচি এখন অত্যন্ত ঠাসা। এত ব্যস্ততার মাঝে তিনি নাটকের রিহার্সাল ও মঞ্চায়নের জন্য পর্যাপ্ত সময় বের করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সন্দিহান অনেকেই। তবে ব্যক্তিগত জীবনে যাঁকে রাজনৈতিক আদর্শ ও অনুপ্রেরণা মেনে চলেন, সেই অটলবিহারী বাজপেয়ীর মতো মহান নেতার চরিত্রে অভিনয় করার এই সুবর্ণ সুযোগ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হাতছাড়া করতে চাইবেন না বলেই তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল মনে করছে। সব মিলিয়ে, রাজনীতির ময়দানের এই লড়াকু নেতাকে খুব শীঘ্রই নাটকের মঞ্চে দেখা যাবে কি না, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় বঙ্গবাসী।