আধার সংযোগের জেরে লম্বা লাইন! বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসা করাতে গিয়ে রোগীদের চরম ভোগান্তি!

রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং ডিজিটাল নথিপত্রকে গুরুত্ব দিতে প্রতিটি রোগীর জন্য আধার কার্ডের ভিত্তিতে ‘আভা আইডি’ (ABHA ID) তৈরি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত পরিকাঠামো এবং কর্মী সংকটের অভাবের জেরে এই নতুন নিয়মই এখন সাধারণ মানুষের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসা হাজার হাজার সাধারণ রোগী ও তাঁদের পরিজনদের এই জটিলতার কারণে প্রতিদিন চরম হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। আউটডোর খোলার বহু আগে থেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে শুধুমাত্র একটি টিকিট কাটতেই রোগীদের ২ থেকে ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় নষ্ট হচ্ছে, যা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই সমস্ত সরকারি হাসপাতালে আধার কার্ডের লিঙ্কের মাধ্যমে আভা আইডি তৈরি বাধ্যতামূলক করা হয়। বাঁকুড়া মেডিক্যালের আউটডোরের টিকিট কাউন্টারগুলিতে যখন রোগীরা আসছেন, তখন টিকিট কাটার পাশাপাশি কর্মীদেরই আধার কার্ড যাচাই করে এই আইডি তৈরি করতে হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই একটি টিকিট তৈরি করতে আগের তুলনায় অনেক বেশি সময় লাগছে। এদিকে কর্মী সংখ্যা এতটাই কম যে নতুন টিকিট কাউন্টার খোলা তো দূরের কথা, বিদ্যমান কাউন্টারগুলির সবকটি একসঙ্গে সচল রাখাও সম্ভব হচ্ছে না।

হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ পরিসংখ্যান বলছে, যেখানে গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি এবং জিডি মিলিয়ে মোট ৫০০ জন স্থায়ী কর্মী থাকার কথা, সেখানে বর্তমানে মাত্র ১০০ জনের কাছাকাছি কর্মী দিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে। এই তীব্র কর্মী সংকটের কারণে কাউন্টারগুলিতে উপচে পড়া ভিড় সামাল দেওয়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে প্রতিদিন সকাল থেকেই আউটডোরের টিকিটের জন্য রোগীদের সুদীর্ঘ লাইন হাসপাতাল চত্বর ছাড়িয়ে পার্শ্ববর্তী মূল রাস্তায় গিয়ে ঠেকছে। খোলা আকাশের নিচে প্রচণ্ড রোদ, ঝরঝরে বৃষ্টি বা দুর্যোগ মাথায় নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন দূরদূরান্ত থেকে আসা অসুস্থ রোগীরা।

এক ভুক্তভোগী রোগী আক্ষেপের সুরে জানিয়েছেন, “সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে শুধু টিকিট কাটাতেই আমাদের বেশিরভাগ সময় কেটে যাচ্ছে। এরপর ডাক্তারের কাছে পৌঁছানোর আগেই অনেক সময় চিকিৎসকদের চেম্বার বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। আবার ডাক্তারবাবু যদি রোগ পরীক্ষার জন্য কোনো নতুন রিপোর্ট করিয়ে আনতে বলেন, সেই কাজ করতে করতেই চিকিৎসকের সময় শেষ হয়ে যায় এবং তিনি চলে যান। এর ফলে বহু মানুষ বিনা চিকিৎসায় ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।” সাধারণ মানুষের এই নিত্যদিনের দুর্ভোগ দূর করতে অবিলম্বে কর্মী নিয়োগ এবং টিকিটিং ব্যবস্থাকে সহজ ও দ্রুত করার জোরালো দাবি উঠেছে।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty