পর্যটনে মেগা মাস্টারপ্ল্যান! কালিম্পং থেকে দার্জিলিং এবার রোপওয়ে, দিঘায় স্পিডবোট আর সুন্দরবনে ওয়াটার অ্যাম্বুল্যান্স!

রাজ্যের পর্যটন শিল্পে জোয়ার আনতে এবার একগুচ্ছ যুগান্তকারী ও আধুনিক পরিকল্পনার পথে হাঁটল রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে পর্যটন দফতরের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকেই রাজ্যের পর্যটন মানচিত্রকে সম্পূর্ণভাবে ঢেলে সাজানোর রূপরেখা চূড়ান্ত হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, বাংলার পর্যটনকে বিশ্বমানের করে তুলতে এবং পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে একাধিক বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিনের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ, প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী, মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত এবং অর্থসচিব-সহ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী পর্যটন দফতরকে সমস্ত সম্পত্তির আধুনিকীকরণ এবং বিভিন্ন সহযোগী দফতরের মধ্যে নিখুঁত সমন্বয় সাধনের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যোগাভ্যাসের অনুপ্রেরণায় উত্তরবঙ্গে একটি বৃহৎ যোগা কেন্দ্র গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রায় এক হাজার মানুষের ধারণক্ষমতা সম্পন্ন এই কেন্দ্রটি তৈরির জন্য অবিলম্বে উপযুক্ত জমি খোঁজার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
পাহাড়ের পর্যটনে নতুন গতি আনতে কালিম্পং থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত ২১ কিলোমিটারের একটি অত্যাধুনিক রোপওয়ে চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পর্যটন দফতরের আধিকারিকদের মতে, এই রোপওয়ে চালু হলে যাতায়াতের যেমন বিকল্প সুবিধা মিলবে, তেমনই এটি পর্যটকদের কাছে অন্যতম প্রধান আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে। পাহাড়ের পাশাপাশি সমতল ও উপকূলের পর্যটনেও আসছে বড় পরিবর্তন। সুন্দরবনের নদীপথে বিলাসবহুল প্রমোদতরী বা রিভার ট্যুরিজম চালুর উপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, দিঘা এবং মন্দারমণির মতো জনপ্রিয় সমুদ্র সৈকতগুলিতে পর্যটকদের বিনোদনের জন্য স্পিডবোট নামানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
পর্যটকদের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সুন্দরবন এবং দিঘা-মন্দারমণি অঞ্চলে আপৎকালীন পরিষেবার জন্য ওয়াটার অ্যাম্বুল্যান্স ও রেসকিউ বোট সবসময় প্রস্তুত রাখা হবে। পাশাপাশি, বাংলাকে একটি আকর্ষণীয় ‘ওয়েডিং ডেস্টিনেশন’ বা বিবাহ বাসর হিসেবে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। দ্রুত পরিষেবা নিশ্চিত করতে পর্যটন দফতরে নতুন কর্মী নিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বাংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে দেশজুড়ে ছড়িয়ে দিতে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরে পর্যটনের আগ্রাসী প্রচার চালানো হবে। আগামী ৪ সেপ্টেম্বর জন্মাষ্টমীর পুণ্য তিথিতে পর্যটন দফতরের এই সার্বিক পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে নতুন লোগো উন্মোচিত হতে চলেছে, যার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী।