ফের ঘনাচ্ছে দুর্যোগের ঘনঘটা! ১৬ জেলায় হলুদ সতর্কতা জারি করল হাওয়া অফিস, ভিজবে কলকাতা?

রাজ্যে কি ফের একবার ফিরে আসছে দুর্যোগের দিন? বর্ষার বিদায়বেলায় আবহাওয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল। বাংলার আকাশে ফের ঘনাচ্ছে কালো মেঘ। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রাজ্যের মোট ১৬টি জেলায় জারি করা হয়েছে হলুদ সতর্কতা। গত কয়েক দিন ধরে বঙ্গোপসাগরের ওপর তৈরি হওয়া নতুন নিম্নচাপের জেরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পরিমাণ অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে।

বুধবার সকাল থেকেই কলকাতার আকাশ মেঘাচ্ছন্ন। মাঝে-মধ্যে রোদের দেখা মিললেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই শহরের আকাশে মেঘের আস্তরণ ঘন হচ্ছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই বৃষ্টির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কোথাও কোথাও ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়া জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

শুধু সপ্তাহের মাঝেই নয়, উইকেন্ডেও দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা বহাল থাকছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, হুগলি এবং বাঁকুড়া জেলায় ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারের কিছু অংশে এক পশলা ভারী বৃষ্টি হতে পারে, যদিও উইকেন্ডের দিকে উত্তরবঙ্গে সামগ্রিক বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমতে পারে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস।

আবহাওয়াবিদদের মতে, এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বর্ষা বিদায় নেয়নি। এর ওপর বঙ্গোপসাগরের বুকে তৈরি হওয়া নতুন নিম্নচাপের প্রভাবে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় বৃষ্টি নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আগামী কয়েক দিন দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় এই আবহাওয়া বজায় থাকতে পারে। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং এবং আলিপুরদুয়ারেও বুধবার ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে এবং পরবর্তীতে শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত এই জেলাগুলিতে ফের বৃষ্টির দৌরাত্ম্য বাড়তে পারে।

তবে সাধারণ মানুষের স্বস্তির বিষয় হলো, আগামী দুই থেকে তিন দিনের জন্য মৎস্যজীবীদের প্রতি সমুদ্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে আবহাওয়া দফতরের পক্ষ থেকে কোনো বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করা হয়নি। সব মিলিয়ে, বর্ষার এই শেষবেলার স্পেলে ছাতা হাতেই ঘরের বাইরে বের হতে হচ্ছে রাজ্যবাসীকে।