শপিংমলেই এবার জমজমাট দুর্গাপুজো! কলকাতার কোন নামী মলে বসছে মা’র এমন তাক লাগানো আসর?

রথযাত্রার চাকা গড়ানোর অর্থই হল ঢাকের পিঠে কাঠি পড়ার অপেক্ষা শুরু। বছরভর মাত্র এই পাঁচটা দিনের জন্য মুখিয়ে থাকা বাঙালির মনে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে পুজোর কাউন্টডাউন। আর হাতে গোনা মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকতেই শহর কলকাতার কুমোরটুলিতে এখন ব্যস্ততা তুঙ্গে। মৃণ্ময়ী প্রতিমাকে চিন্ময়ী রূপ দিতে দিনরাত এক করে পরিশ্রম করছেন শিল্পীরা। তবে শুধু পাড়ার পুজো বা ঐতিহ্যবাহী ক্লাবগুলির বারোয়ারি তাবুতেই নয়, এবছর পুজোপ্রেমীদের জন্য আসছে এক্কেবারে তাক লাগানো নতুন চমক। শহরের অন্যতম নামজাদা শপিংমলে এবার বর্ণাঢ্য আয়োজনে হতে চলেছে দুর্গোৎসব, যার জেরে সাজসাজ রব চারদিকে।

শহর কলকাতার বুকে কোন মলে এবার জমবে দুর্গাপুজো? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে আমজনতার মনে। দুর্গাপুজো মানেই বাঁধভাঙা উল্লাস, হৈহুল্লোড় আর পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার সোনালী সময়। শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে মফস্বলের আনাচে-কানাচে তো বটেই, তবে এই প্রথমবার দক্ষিণ কলকাতার অত্যন্ত জনপ্রিয় সাউথ সিটি মলে ধুমধাম করে আয়োজন করা হচ্ছে মা দুর্গার আরাধনার। কলাবউ স্নান থেকে শুরু করে মহাষ্টমীর অঞ্জলি—পুরোহিত মশাইয়ের মন্ত্রোচ্চারণে ঐতিহ্য মেনেই হবে এই পুজো। এই বিশেষ উদ্যোগের বিষয়ে শপিংমলের ডিরেক্টর দীপ বিশ্বাস জানান, সারা বছরই সাউথ সিটি মলে মানুষের ব্যাপক ভিড় থাকে, কিন্তু বাঙালির প্রাণের উৎসব দুর্গাপুজো হল সবচেয়ে বড় সামাজিক মিলনের মঞ্চ। কেনাকাটা, খাওয়াদাওয়া ও আড্ডার পাশাপাশি সাধারণ মানুষ যাতে সরাসরি পুজোর পুণ্যলগ্নে মেতে উঠতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যেই এই অভিনব ভাবনা। অতীতে পুজোর সময় মলের সেন্ট্রাল জোনে মা দুর্গার প্রতীকী প্রতিকৃতি রাখা হলেও, এই প্রথম রীতিমতো সুবিশাল মণ্ডপ গড়ে পুজোর পূর্ণাঙ্গ আয়োজন করা হচ্ছে।

ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে দুর্গা প্রতিমা ও মণ্ডপ নির্মাণের কাজ। সাউথ সিটি মলের এই মেগা দুর্গোৎসবের প্রতিমা তৈরির গুরুদায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে বিশিষ্ট শিল্পী শুভঙ্কর দত্তের ওপর। তাঁরই জাদুকরী হাতের ছোঁয়ায় সেজে উঠবে এবারের সাউথ সিটি মলের পুজো। এই পুজোর মূল থিম রাখা হয়েছে ‘যাত্রা’। মৃৎশিল্পী জানিয়েছেন, প্রাচীন হাট থেকে শুরু করে আধুনিক শপিংমল পর্যন্ত মানুষের যাতায়াত ও সভ্যতার বিবর্তনের কাহিনি যেমন তাঁর চিন্তাভাবনায় ফুটে উঠবে, তেমনই দুর্গাপুজোর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা নানা অজানা লোকগাথাও এই থিমসজ্জার অন্যতম মূল আকর্ষণ হতে চলেছে। তবে খোলা মাঠ বা রাস্তার ধারে মণ্ডপ গড়ার সঙ্গে শপিংমলের অন্দরে মণ্ডপ তৈরির অভিজ্ঞতা যে সম্পূর্ণ আলাদা, সেকথাও স্পষ্ট জানিয়েছেন শিল্পী। তিনি বলেন, “মাঠ বা রাস্তায় প্যান্ডেল গড়ার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকলেও, মলের ভেতরে এই প্রথমবার কাজ করছি। সেই কারণে নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে মণ্ডপ তৈরির আগে কাঠামোগত বিষয় নিয়ে ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করতে হয়েছে, যাতে পুজো চলাকালীন মলের ভেতর কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা সমস্যা তৈরি না হয়।”

সব মিলিয়ে, দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে আর মাত্র কয়েকদিনের অপেক্ষা। শহরের কংক্রিটের জাঁকজমকে একেবারে অন্যরকম এবং অভিনব এক পুজোর স্বাদ পেতে এবার আপনিও ঢুঁ মারতে পারেন দক্ষিণ কলকাতার এই জনপ্রিয় সাউথ সিটি মলে।