গোলগাল শিশুই কি সুস্থতার প্রতীক? আধুনিক গবেষণার তথ্য শুনলে আঁতকে উঠবেন!

হৃষ্টপুষ্ট বা গোলগাল শিশুকে একসময় পরিবারে সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধির লক্ষণ হিসেবে মনে করা হতো। কিন্তু বর্তমান সময়ে এই ধারণাই শিশুদের ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ ডেকে আনছে। সম্প্রতি শৈশবের স্থূলতা কেবল ওজন বৃদ্ধির গণ্ডি ছাড়িয়ে দেশের জনস্বাস্থ্যের এক অন্যতম বড় সংকটে রূপ নিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতজুড়ে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে অতিরিক্ত ওজন এবং স্থূলতার হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভের তথ্য তুলে ধরে জানা যায়, পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের মধ্যে অতিরিক্ত ওজনের হার ২০০৫-০৬ সালের ১.৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০১৯-২১ সালে ৩.৪ শতাংশে পৌঁছেছে। শুধু তাই নয়, ইউনিসেফের পূর্বাভাস বলছে, বর্তমান পরিস্থিতি বজায় থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সি ২ কোটি ৭০ লক্ষেরও বেশি শিশু ও কিশোর এই সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনযাত্রার আমূল পরিবর্তনই এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ। পিৎজা, বার্গার, চিপস, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস এবং অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় দ্রুত ঐতিহ্যবাহী এবং পুষ্টিকর ঘরোয়া খাবারের জায়গা কেড়ে নিচ্ছে। এসব খাবারে ক্যালোরি, নুন ও ফ্যাট অতিরিক্ত পরিমাণে থাকলেও পুষ্টিগুণ প্রায় থাকেই না। এর ওপর শিশুদের লক্ষ্য করে তৈরি বিভিন্ন বিজ্ঞাপন এবং অনলাইন মাধ্যমের আকর্ষণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। পাশাপাশি খেলার মাঠের জায়গা দখল করে নিয়েছে মোবাইল ফোন, কম্পিউটার ও অনলাইন বিনোদন, যার ফলে শিশুদের শারীরিক পরিশ্রম তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।
শৈশবের এই অতিরিক্ত ওজন কেবল বাহ্যিক চেহারার বিষয় নয়, এর হাত ধরে ভবিষ্যতে উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, টাইপ-টু ডায়াবেটিস, ফ্যাটি লিভার এবং হৃদরোগের মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে মানসিক স্তরেও আত্মবিশ্বাসের অভাব এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এই সংকট থেকে শিশুদের রক্ষা করতে ঘরের পরিবেশ থেকেই সচেতনতা শুরু করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রক্রিয়াজাত জাঙ্ক ফুডের বদলে ফলমূল, শাকসবজি এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন অন্তত ৪৫ থেকে ৬০ মিনিট শারীরিক পরিশ্রম, স্ক্রিন টাইম কমানো এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি, স্কুলস্তরে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের শিক্ষা এবং অস্বাস্থ্যকর খাবারের বিজ্ঞাপনের ওপর কড়া সরকারি নিয়ন্ত্রণের দাবিও জোরালো হচ্ছে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও সক্রিয় জীবনযাত্রাই পারে আগামী প্রজন্মকে বড় ধরণের শারীরিক ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে।